লিখেছেন :   Joji Samuel বিভাগগুলি :   মণ্ডলী শিষ্য
WFTW Body: 

(এই নিবন্ধটি ২০১৫ সালে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত সিএফসি (CFC) চার্চগুলোর সর্ব-ভারতীয় সম্মেলনে কোট্টায়ামের সিএফসি মণ্ডলীর প্রাচীন জজি স্যামুয়েলের দেওয়া একটি বার্তার সারসংক্ষেপ।)

(এই বার্তাটি ধীরে ও মনোযোগ সহকারে পড়ুন)

খ্রীষ্টের পুনরাগমন পর্যন্ত আমরা কীভাবে আমাদের মণ্ডলীগুলোতে ঈশ্বরের মহিমা বজায় রাখতে পারি ?

আমরা যখন বলি যে আমরা আমাদের মধ্যে ঈশ্বরের মহিমা বজায় রাখতে চাই, তখন আমরা ধরে নিই যে ঈশ্বরের মহিমা ইতিমধ্যেই-অর্থাৎ বর্তমানে-আমাদের মাঝে বিদ্যমান। আমরা কীভাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারি?

গত কয়েক বছরে আমরা এমন কিছু মহিমান্বিত সত্য শুনেছি যা আমাদের পাপ থেকে মুক্ত করেছে এবং আমাদের জীবনে এক বিশাল স্বাধীনতা নিয়ে এসেছে। এটি এমন একটি উপায় যার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন-কারণ প্রভু যীশু বলেছিলেন যে, পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি যে ঈশ্বরের সত্য আমাদের মধ্যে রয়েছে (যোহন ৮:৩২)। কিন্তু এখন আমাদের দেখা প্রয়োজন কীভাবে আমরা এই স্বাধীনতার মধ্যে টিকে থাকতে পারি এবং সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।

জীবনের শেষলগ্নে তীমথিয়কে লেখা চিঠিতে পৌল তাঁকে এই বলে তাগিদ দিয়েছিলেন: "নিজের প্রতি ও তোমার শিক্ষার প্রতি খুব মনোযোগ দাও এবং এগুলোর মধ্যেই মগ্ন থাকো" (১ তীমথিয় ৪:১৫-১৬)। তিনি তীমথিয়কে আরও বলেছিলেন যে, তিনি যদি এই কাজগুলো অব্যাহত রাখেন, তবে তিনি নিজের এবং তাঁর কথা যারা শুনছে-উভয়েরই পরিত্রাণ নিশ্চিত করবেন। বিগত বছরগুলোতে আমরাও সেই সত্যের বাস্তবতার অভিজ্ঞতা লাভ করেছি যা আমাদের মুক্তি দিয়েছে এবং আমাদের সভা-সমাবেশগুলোতে নিজেদের মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতিও অনুভব করেছি। আমাদের মধ্যে ঈশ্বরের মহিমা বিরাজমান থাকার এটিই অন্যতম প্রমাণ।

আমি একটি পেন্টেকোস্টাল পরিবারে জন্মগ্রহণ করি এবং পেন্টেকোস্টাল গির্জায় যাতায়াত করতাম। কিন্তু কিছুদিন পর আমি উপলব্ধি করলাম যে, আমি যেসব বিষয়ের কথা বলতাম, সেগুলোর অনেক কিছুই আমার ব্যক্তিগত জীবনে বাস্তবে প্রতিফলিত ছিল না। আমার গির্জার অন্যান্য সদস্য-এমনকি সেখানকার যাজক ও নেতাদের জীবনেও-আমি সেই সত্যগুলোর বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাইনি। ঠিক সেই সময়েই আমি 'How to live the victorious life' বা 'কীভাবে বিজয়ী জীবনযাপন করা যায়' শিরোনামের একটি বই পড়ি। বইটিতে আমি এমন এক জীবনযাপনের সম্ভাবনার কথা পড়লাম যা সব বাধা ও প্রতিকূলতাকে জয় করতে সক্ষম। তাই আমি বইটির লেখকের সাথে যোগাযোগ করার কথা ভাবলাম; কিন্তু সেখানে লেখকের নাম হিসেবে কেবল 'একজন অজ্ঞাতনামা খ্রীষ্টান'-এর উল্লেখ ছিল। সেই বই থেকেই আমি প্রথমবারের মতো বিজয়ী জীবনযাপনের আশা পেয়েছিলাম। কিন্তু এ বিষয়ে আমার আশেপাশের কারো কাছ থেকে আমি কোনো সাহায্য পাইনি।

এরপর আমি ভাই জ্যাক পুনেনের সান্নিধ্য লাভ করি এবং তাঁর লেখা বইগুলো পড়তে শুরু করি। পাপের ওপর জয়যুক্ত জীবনযাপনের যে বার্তা তিনি প্রচার করতেন, তা শোনার পাশাপাশি আমি তাঁর মধ্যে খ্রীষ্টের মতো জীবনের এক জীবন্ত দৃষ্টান্তও দেখতে পাই। তিনি প্রচার করতেন যে, যীশু হলেন আমাদের অগ্রগামী পথপ্রদর্শক-যিনি আমাদের মতোই রক্ত-মাংসের শরীর ধারণ করে পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং আমাদের মতোই সর্ববিষয়ে প্রলোভনের সম্মুখীন হয়েও জয়ী হয়েছিলেন। এই শিক্ষা খ্রীষ্টীয় জীবন সম্পর্কে আমার মধ্যে এক সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গির উন্মেষ ঘটায় এবং আমি ভাই জ্যাকের মণ্ডলীর (ক্রিশ্চিয়ান ফেলোশিপ চার্চ) সাথে যুক্ত হতে শুরু করি। এর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমি পবিত্র আত্মায় প্রকৃত বাপ্তিস্মের অভিজ্ঞতাও লাভ করি।

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ঈশ্বরের একটি কার্য হিসেবে পেন্টেকোস্টাল আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। আমরা সবাই শুনেছি কীভাবে মার্টিন লুথার (ষোড়শ শতাব্দীতে) বিশ্বাসের দ্বারা ধার্মিকতা লাভের সেই সত্যটি পুনরুদ্ধার করেছিলেন, যা বহু শতাব্দী ধরে চাপা পড়ে ছিল। পরবর্তীতে অ্যানাব্যাপ্টিস্ট আন্দোলন জল-বাপ্তিস্মের সত্যকে সামনে নিয়ে আসে। এরপর জন ওয়েসলি জগত থেকে পৃথক হয়ে পবিত্র জীবনযাপনের সত্যটি তুলে ধরেন। পরবর্তীতে পেন্টেকোস্টাল আন্দোলনের আবির্ভাব ঘটে এবং এটি পবিত্র আত্মায় বাপ্তিস্ম বিষয়ক সেই সত্যটিকে পুনরুদ্ধার করে, যা প্রথম শতাব্দীতে প্রেরিতরা প্রচার করেছিলেন।

তবে পেন্টেকোস্টাল আন্দোলনের দিকে আরও গভীরভাবে তাকালে দেখা যায় যে, তাদের নেতারা পবিত্র আত্মার কাজকে কেবল তাঁর প্রদত্ত বিভিন্ন আত্মিক বরদান বা ক্ষমতার চর্চার সাথেই এক করে দেখেন। পবিত্র আত্মার শক্তিতে চালিত হয়ে পবিত্র জীবন যাপনের ক্ষেত্রে আমি কোনো পেন্টেকোস্টাল নেতাকেই সেই শক্তির প্রকাশ ঘটাতে দেখিনি; তাদের সমস্ত মনোযোগ ছিল কেবল আত্মিক বরদানগুলোর ওপরই। আমি আরও লক্ষ্য করেছি যে, পবিত্র আত্মার শক্তির আকাঙ্ক্ষা করা সত্ত্বেও তাদের প্রায় সবাই অর্থ ও সম্মানজনক পদের পেছনেই ছুটেছে। বিজয়ী খ্রীষ্টান হিসেবে জীবন যাপনের বিষয়ে তাদের কাউকেই কথা বলতে দেখা যায়নি। অন্যরা হয়তো এই অসঙ্গতি লক্ষ্য করেছেন, কিন্তু এ নিয়ে কাউকে খুব একটা বিচলিত হতে দেখা যায়নি।

এতে আমার এমন এক ব্যক্তির কথা মনে পড়ে যাচ্ছে-যিনি একসময় কোনো প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন, কিন্তু অবসরের পর তাঁর মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। তিনি তখন হেঁটে অফিসের গাড়ি রাখার জায়গায় (পার্কিং লটে) যেতেন এবং মনে করতেন যে তিনি গাড়ি চালিয়ে এসেছেন। তাই তিনি গাড়ি চালানোর মতো শারীরিক ভঙ্গি করতেন-যেমন ব্রেক কষা কিংবা ফাঁকা জায়গায় তাঁর সেই কাল্পনিক গাড়িটি পার্ক করা। এরপর তিনি কাল্পনিক গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে আসতেন, দরজাটি 'বন্ধ' করতেন এবং নিরাপত্তারক্ষীর কাছে গিয়ে তাকে বলতেন যেন তাঁর গাড়িটির 'খেয়াল রাখা হয়'! এরপর তিনি কিছুক্ষণ পর পার্কিং লটে ফিরে আসতেন এবং এমন ভান করতেন যেন তিনি গাড়িতে উঠছেন, গাড়িটি পেছনের দিকে সরিয়ে নিচ্ছেন এবং চালিয়ে চলে যাচ্ছেন। তাঁর এই কার্যকলাপ দেখে একদিন কয়েকজন লোক নিরাপত্তারক্ষীকে জিজ্ঞেস করলেন যে ওই ব্যক্তি আসলে কী করছেন। নিরাপত্তারক্ষী তাদের জানালেন যে, একসময় বড় কোনো নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি তাঁর আসল গাড়ি নিয়ে এখানে আসতেন, কিন্তু এখন তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন। নিরাপত্তারক্ষী আরও বললেন, "তবে তিনি তো কারও কোনো সমস্যা সৃষ্টি করেন না। তিনি কেবল তাঁর কাল্পনিক গাড়িটি পার্ক করে চলে যান এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে সেটি চালিয়ে নিয়ে যান! তাই আমি তাঁকে তাঁর মতো থাকতে দিই।" তখন লোকজন তাকে জিজ্ঞেস করলেন যে তিনি কেন ওই ব্যক্তিকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন না বা সংশোধন করেন না। এর জবাবে নিরাপত্তারক্ষী বললেন, "আমি কেন তাঁকে সংশোধন করতে যাব? তিনি তো প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত পার্কিংয়ের ফি দেন; আর তার ওপর, প্রতি দুই সপ্তাহে তাঁর গাড়ি ধোয়ার জন্য আমাকে একশ টাকাও দেন!"

আজ অনেক পেন্টেকোস্টাল মণ্ডলীতে যা ঘটছে, এটি তারই একটি চিত্র: লোকেরা পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হওয়ার ভান করছেন এবং নানা ধরনের অঙ্গভঙ্গি ও শব্দ করছেন। তাদের পালকরা-যারা এই সব কাণ্ডকারখানা দেখেন-তারা বলেন, "আমরা কেন তাদের বিরক্ত করব? তারা তো প্রতি মাসে তাদের দশমাংশ দিচ্ছে এবং আমাদের মতো পালকদের নিয়মিত উপহারও দিচ্ছে। তাহলে কেন আমরা তাদের কাছে পবিত্র আত্মায় পূর্ণ এক প্রকৃত বিজয়ী জীবনের বাস্তবতার কথা তুলে ধরব?" অবশ্য, সেই পালকদের নিজেদেরই কোনো বিজয়ী জীবন নেই! অনেক পেন্টেকোস্টাল মণ্ডলীতেই এই বিভ্রান্তি বা আত্মপ্রতারণা চলছে।

অনেক গির্জায় বিদ্যমান এই শোচনীয় পরিস্থিতির কারণেই ঈশ্বর আমাদের মাঝে এমন একজন মানুষকে পাঠিয়েছেন- যিনি ঈশ্বরের মণ্ডলীর প্রকৃত আধ্যাত্মিকতার বিষয়ে গভীর দায়বদ্ধতা অনুভব করেন।

লূক ১২:৫৬ পদে, যীশু ফরীশীদের ভর্ৎসনা করেছিলেন কারণ তারা সেই সময়টিকে বিচক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল, যে সময়ে তারা বাস করছিল। আমাদেরও প্রয়োজন বর্তমান সময়কে বিচক্ষণকরা-এবং আমরা নিজেরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, তা দেখা। আর প্রভুর সাথে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। যে ব্যক্তি বর্তমান সময়কে বিচক্ষণ করেন ,এই সময়ের জন্য প্রভুর দেওয়া দায়ভার গ্রহণ করেন এবং তা নিয়ে এগিয়ে যান-তিনিই হলেন একজন প্রকৃত ভাববাদী।

বাইবেলে এমন অনেক ভাববাদী ছিলেন যাঁরা তাঁদের নিজ নিজ সময়ের জন্য প্রভুর কাছ থেকে বিশেষ বার্তা বা ভার লাভ করেছিলেন। বাপ্তাইজক যোহন ছিলেন একজন ভাববাদী এবং ঈশ্বরের দ্বারা প্রেরিত একজন ব্যক্তি। তাঁর জীবনের দিকে তাকালে আমরা একজন প্রকৃত ভাববাদীর কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই।

প্রথমত, যোহনের বার্তা ছিল কেবল একটিই। সেটি হলো-"মন ফিরাও, মন ফিরাও"-এবং তিনি অত্যন্ত গভীর এক অন্তরের বোঝ নিয়ে এই বার্তা প্রচার করতেন। যোহনের বার্তা কি কোনো 'ভারসাম্যপূর্ণ' বার্তা ছিল? মোটেও না। তাঁর বার্তা ছিল কেবল একটিই: মন পরিবর্তন কর। ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া বিশেষ কোনো অন্তরের বোঝ প্রত্যেক প্রকৃত ভাববাদীরই থাকে-আর তাই তাঁদের বার্তা কখনোই তথাকথিত 'ভারসাম্যপূর্ণ' হয় না। বাপ্তাইজক যোহনের সময়ে কারা এমন 'ভারসাম্যপূর্ণ' বার্তা দিচ্ছিলেন? তাঁরা ছিলেন ফরীশীরা-যাঁরা শাস্ত্র গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছিলেন। তাঁরা তাঁদের সমাজগৃহে বা সিনাগগে এমন 'ভারসাম্যপূর্ণ' বার্তা প্রচার করতেন ঠিকই, কিন্তু আধ্যাত্মিকভাবে তাঁরা সবাই ছিলেন মৃত! আর সাধারণ মানুষ সেই সমাজগৃহে বসে তথাকথিত 'ভারসাম্যপূর্ণ' সব বার্তা শুনত এবং তারাও আধ্যাত্মিকভাবে মৃতই থেকে যেত। কিন্তু তাঁদের মধ্যে যাঁদের মনে ঈশ্বরের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল, তাঁরা ঈশ্বরের প্রকৃত ভাববাদী-বাপ্তাইজক যোহনের সেই 'অসামঞ্জস্যপূর্ণ' বার্তা শোনার জন্য মরুপ্রান্তরে বেরিয়ে পড়তেন। এভাবেই তাঁরা আধ্যাত্মিক ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেতেন।

প্রকৃত ভাববাদীর আরেকটি বৈশিষ্ট্য, যা আমরা যোহনের ক্ষেত্রে দেখতে পাই, তা হলো তাঁর বলিষ্ঠ ও কঠোর ভাষা। অনেক প্রচারকই তাঁদের বার্তা শুরু করেন শ্রোতাদের প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ সম্ভাষণ জানিয়ে। কিন্তু যোহন তাঁর বার্তা শুরু করেছিলেন এই বলে: "হে বিষধর সাপের বংশধররা!" তিনি মানুষকে বিনোদন দেওয়ার জন্য প্রচার করতেন না, বরং তাদের পাপের বিষয়ে দোষী সাব্যস্ত করার জন্যই প্রচার করতেন।

একজন প্রকৃত ভাববাদীর তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো যে, তিনি কখনোই আপোষকামী হবেন না। রাজা হেরোদ যোহনের প্রচার শুনতে ভালোবাসতেন এবং তা অত্যন্ত পছন্দ করতেন। মানুষ যখন আমাদের প্রচারের প্রশংসা করে, তখন তাদের আধ্যাত্মিক অবস্থা সম্পর্কে সত্য কথা বলা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। কিন্তু যোহন এমন কোনো দ্বিধা বা সংকোচ বোধ করেননি। তিনি সরাসরি হেরোদের মুখের ওপর তাকে ভর্ৎসনা করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে, নিজের ভাইয়ের স্ত্রীকে বিয়ে করার কারণে তিনি একজন ব্যভিচারী। যোহন আপোষকামী বা মানুষের মন-তুষ্টকারী ছিলেন না। সত্য কথা বলার কারণে তাকে প্রাণ দিতে হয়েছিল। কিন্তু ঈশ্বর তাকে যে বার্তা দিয়েছিলেন, তার প্রতি তিনি শেষ পর্যন্ত বিশ্বস্ত ছিলেন। প্রত্যেক প্রকৃত ভাববাদী এমনই হয়ে থাকেন।

ইস্রায়েলের কয়েকজন মানুষ-যারা বুঝতে পেরেছিলেন যে যোহন ঈশ্বরের বার্তা বহনকারী একজন সত্য ভাববাদী-তাঁরা মরুপ্রান্তরে তাঁর সাথে যোগ দিয়েছিলেন।

আমরা যদি বর্তমান সময় এবং যে আন্দোলনের সাথে আমরা যুক্ত (সিএফসি বা ক্রিশ্চিয়ান ফেলোশিপ চার্চ)-তার দিকে তাকাই, তবে বাপ্তাইজক যোহনের পরিচর্যার সাথে এর অনেক মিল খুঁজে পাব।

প্রথমত, যোহনের মতোই আমরাও কেবল একটি বার্তাই প্রচার করি: পবিত্র আত্মার শক্তিতে খ্রীষ্টের সাদৃশ্যে রূপান্তরিত হওয়া। নতুন লোকেরা যখন আমাদের সভায় আসেন, তখন তাদের কেউ কেউ প্রশ্ন করেন-কেন আমরা প্রতি রবিবারই একই বিষয় নিয়ে প্রচার করি। তারা বলেন যে, আমাদের বার্তাটি নাকি ভারসাম্যপূর্ণ নয়! অথচ এই সময়ে নিজের লোকদের জন্য প্রভুর হৃদয়ে এই বিশেষ ভার বা বার্তাটিই রয়েছে। কিন্তু কতজন খ্রীষ্টান এটা উপলব্ধি করেন যে, বর্তমান সময়ের জন্য প্রভুর বার্তা এটাই-অর্থাৎ, নিজের লোকদের বিষয়ে প্রভুর বর্তমান ভার বা আকাঙ্ক্ষা এটাই? আর কতজন খ্রীষ্টান প্রভুর ভাববাদীর সাথে থাকার জন্য 'প্রান্তরে' যেতে প্রস্তুত?

আরও বলি: যোহনের সময়ের মতোই, সিএফসি (CFC)-তে আমরা যে বার্তা বা প্রচার শুনি, তা অত্যন্ত জোরালো এবং কোনো আপস-রহিত। আর যোহনের সময়ে ঈশ্বর-ভীত মানুষেরা যেমনটি করেছিলেন, ঠিক তেমনই আজও প্রভু তাঁর লোকদের আহ্বান করছেন যেন তারা প্রভু যীশুর সাথে 'শিবিরের বাইরে' বেরিয়ে আসে এবং তাঁর অপমান বা নিন্দা নিজেদের ওপর তুলে নেয়।

এই সময়ে নিজের লোকদের প্রতি প্রভুর যে গভীর ভার বা উদ্বেগ রয়েছে, তা কি আপনি 'দেখতে' পেয়েছেন? যদি পেয়ে থাকেন, তবে কি আপনি প্রভুর পক্ষে-এবং প্রভুর সাথে-দাঁড়াবেন? তবে এর জন্য আপনাকে মূল্য দিতে হবে।

পাখির ঝাঁক কীভাবে ওড়ে, তা কি আপনি লক্ষ্য করেছেন? ঝাঁকের একেবারে সামনে একটি পাখি থাকে যা দলটিকে পথ দেখায়-আর বাকি সব পাখি তার পেছনে তীরের মতো বিন্যাসে তাকে অনুসরণ করে। সামনের পাখিটিই পুরো ঝাঁকটিকে পরিচালনা করে। যাত্রাপথে ঝাঁকের সামনে বৈদ্যুতিক তার, টাওয়ার বা অন্যান্য অনেক বাধা থাকতে পারে। সেই অগ্রগামী পাখিটিই সবার আগে এই বিপদগুলোর মুখোমুখি হয় এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সেগুলোর মধ্য দিয়ে পথ করে নেয়। তখন অন্য পাখিরা নিরাপদে তার পেছনে চলতে পারে এবং এভাবেই তারা সুরক্ষিত থাকে। আমাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক তেমনই-ঈশ্বরের এমন একজন মানুষের সাথে যুক্ত থাকা এবং তাঁর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা এক পরম সৌভাগ্যের বিষয়, যিনি প্রভুর ভার বহন করেন এবং আধ্যাত্মিক যাত্রাপথের সমস্ত বিপদ থেকে আমাদের নিরাপদে পথ দেখিয়ে নিয়ে যান।

ওয়াচম্যান নি একবার বলেছিলেন যে, আমাদের সময়ের 'আত্মার বর্তমান প্রবাহ' বা 'আত্মার জোয়ার'-এর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আমরা যদি মার্টিন লুথারের সময়ে বাস করতাম, তবে মার্টিন লুথারের পাশে দাঁড়ানোই হতো সঠিক কাজ। কিন্তু আমরা যদি জন ওয়েসলির সময়ে বাস করতাম, তবে কেবল মার্টিন লুথার যা প্রচার করেছিলেন তার পক্ষেই আমাদের অবস্থান নেওয়া উচিত হতো না। কারণ, ততদিনে ঈশ্বর জন ওয়েসলির মাধ্যমে মণ্ডলীর কাছে তাঁর আরও অনেক সত্য প্রকাশ করেছিলেন। তখন সেই উচ্চতর সত্যগুলোর জন্য আমাদের জন ওয়েসলির পাশে দাঁড়ানোই উচিত ছিল। তা না হলে, সেই সময়ে আমরা 'আত্মার জোয়ার'-এর সাথে তাল মিলিয়ে চলতাম না।

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে, পবিত্র আত্মা পেন্টেকোস্টাল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কাজ করতে শুরু করেছিলেন-যে আন্দোলন পবিত্র আত্মায় বাপ্তিস্মের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করত। কিন্তু প্রভুর আত্মা এখন ঈশ্বরের লোকদের আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন-এমন এক জীবনের দিকে যা বিজয়ের জীবন এবং যেখানে পাপের ওপর জয়লাভ করা সম্ভব। তাই পবিত্র আত্মার এই বর্তমান কাজের সাথে আমাদের সকলেরই এগিয়ে চলা উচিত। আর যারা আত্মার এই বর্তমান কাজের সাথে এগিয়ে চলার সিদ্ধান্ত নেবেন, তারা ঈশ্বরের ভাববাদীর পাশে দাঁড়াবেন এবং প্রচলিত 'ধর্মীয় খ্রীষ্টান বলয়'-এর বাইরে থাকার কারণে যে নিন্দা বা অপবাদ আসতে পারে, তা মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত থাকবেন।

অতীতের বিভিন্ন সময়ে ঈশ্বর যখন নতুন কোনো উপায়ে কাজ করেছেন, তখন সর্বদা অন্য খ্রীষ্টানদের পক্ষ থেকে তার বিরোধিতা দেখা গেছে; তারা তীব্র সমালোচনার মাধ্যমে সেই নতুন আন্দোলনকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করেছেন। ঈশ্বরের কোনো কাজকে থামিয়ে দেওয়ার বা ধ্বংস করার সবচেয়ে প্রচলিত উপায় হলো সেটিকে 'ভুল শিক্ষা' বা 'মিথ্যা মতবাদ' বলে আখ্যায়িত করা। আর দুর্ভাগ্যবশত, অধিকাংশ খ্রীষ্টানই গুরুতর পাপ করার চেয়ে ভুল মতবাদ বা মিথ্যা শিক্ষার বিষয়টিকে বেশি ভয় পান! তাই বর্তমান সময়ে যদি শোনা যায় যে, কোনো কোনো বাইবেল কলেজে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচিতে 'সিএফসি (CFC) চার্চসমূহ: একটি বিভ্রান্তিকর ধর্মীয় গোষ্ঠী (কাল্ট)'-এমন শিরোনামে কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই!

অতীতে যখনই খ্রীষ্ট জগতে কোনো সত্য ভাববাদী ঈশ্বরের নতুন কোনো কাজের সূচনা করেছেন, তখনই সেই আন্দোলনকে একটি 'কাল্ট' (বা বিভ্রান্তিকর ধর্মীয় গোষ্ঠী) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তাই আজও খ্রীষ্ট জগতে একই ঘটনা ঘটতে দেখাটা মোটেও বিস্ময়কর নয়।

খ্রীষ্টীয় বিশ্বাস বিষয়ক একটি বই-যা প্রেরিত যোহনের সমসাময়িককালে অর্থাৎ ১০০ খ্রীষ্টাব্দের দিকে লেখা হয়েছিল-তাতে (নতুন নিয়মের যুগে) একজন মিথ্যা ভাববাদীর তিনটি লক্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথমত, এতে বলা হয়েছে যে, একজন মিথ্যা ভাববাদী সর্বদা তার শ্রোতাদের কাছে নিজের জন্য অর্থ দাবি করবে। প্রেরিত পৌল যখন ১ ও ২ করিন্থীয় পত্রের মাধ্যমে মণ্ডলীতে অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে কথা বলেছিলেন, তখন সেই অর্থ সর্বদা অন্য মণ্ডলীগুলোর দরিদ্র বিশ্বাসীদের জন্যই ছিল-কখনোই নিজের জন্য নয়। প্রভু যীশু স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, একই সাথে ঈশ্বর ও অর্থের সেবা করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক খ্রীষ্টানকে বেছে নিতে হবে যে তিনি কার সেবা করবেন-ঈশ্বরের নাকি অর্থের। তাকে অবশ্যই সর্বান্তকরণে একজনের সেবা করতে হবে এবং অন্যটির সেবা করা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

আমরা সবাই জানি যে, ভারতে খ্রীষ্টান প্রচারকদের দ্বারা ঈশ্বরের নাম কতটা অসম্মানিত হচ্ছে-যারা প্রতিনিয়ত মানুষের কাছে অর্থ দাবি করে চলেছেন। সুসমাচার প্রচারের নামে ভারতের অনেক প্রচারক বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজেদের জন্য সঞ্চয় করেছেন। কোনো সাধারণ পেশায় কাজ করলে তারা যে পরিমাণ আয় করতেন, তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ তারা আজ উপার্জন করছেন। এসব কিছুই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, এই ধরনের প্রচারকরা যে সুসমাচার প্রচার করেন, তাতে গুরুতর কোনো ত্রুটি রয়েছে। তারা দাবি করেন যে, মহাবিশ্বের রাজার সন্তান হিসেবে তাদের পার্থিব রাজাদের মতোই জীবনযাপন করা উচিত! এটি এমন এক প্রতারণা যা এক চরম দুর্গন্ধময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে এবং ভারতে খ্রীষ্টের সাক্ষ্যকে কলঙ্কিত করেছে।

সেই বইটিতে উল্লিখিত দ্বিতীয় লক্ষণটি হলো, একজন সত্য ভাববাদী (নতুন নিয়মের যুগে) কেবল এক জায়গায় অবস্থান না করে সর্বদা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করে তাঁর বার্তা প্রচার করবেন। পক্ষান্তরে, মিথ্যা ভাববাদীরা কোনো এক জায়গায় আরামে স্থায়ীভাবে বসবাস করে। যখন লোকেরা প্রভু যীশুকে তাদের সাথে থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল, তখন তিনি বলেছিলেন যে ঈশ্বরের বাক্য প্রচারের জন্য তাঁকে অন্যান্য স্থানেও যেতে হবে (লূক ৪:৪২, ৪৩)। পিতর বলেছিলেন যে যীশু সর্বদা "ঘুরে বেড়াতেন এবং ভালো কাজ করতেন" (প্রেরিত ১০:৩৮)। প্রত্যেক সত্য ভাববাদী ঠিক এমনই হবেন। প্রভু তাঁকে যে ভার বা দায়িত্ব দিয়েছেন, তা তাঁকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়ে সেই বার্তা প্রচার করতে বাধ্য করে। একজন মিথ্যা ভাববাদীর ওপর এমন কোনো ভার থাকে না। সে কোনো এক জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে এবং তার পরিচর্যার কাজের জন্য এক বিশাল সদর দপ্তর গড়ে তোলে-যা জগতের দৃষ্টিতে অনেক বড় মনে হয়! কিন্তু একজন সত্য ভাববাদী তাঁর সেই প্রভুকে অনুসরণ করেন যিনি বলেছিলেন, "আমার রাজ্য এই জগতের নয়" (যোহন ১৮:৩৬)।

বইটিতে বলা হয়েছে, একজন মিথ্যা ভাববাদীর তৃতীয় লক্ষণটি হলো তার কথা ও কাজের মধ্যে-অর্থাৎ তার শিক্ষা ও জীবনযাপনের মধ্যে-বিশাল অসঙ্গতি থাকবে। প্রভু যীশুর জীবনে তাঁর কথা ও কাজের মধ্যে সঙ্গতি ছিল; সেগুলো একে অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। প্রেরিত ১:১ পদে আমরা পড়ি যে, প্রভু যীশু প্রথমে কাজ করতেন এবং তারপর যা তিনি করেছিলেন, কেবল তা-ই শিক্ষা দিতেন। একজন সত্য ভাববাদীর ব্যক্তিগত জীবনধারা তাঁর প্রচারিত বার্তার পক্ষে এক বলিষ্ঠ সাক্ষ্য বহন করবে। নিজের জীবনে কোনো ব্যর্থতা বা ত্রুটি দেখলে একজন সত্য ভাববাদী অত্যন্ত ব্যথিত হবেন। ভাববাদী যিশাইয় একবার আর্তনাদ করে বলেছিলেন, "হায় আমি নষ্ট হইলাম, কেননা আমি অশুচি-ওষ্ঠাধর মনুষ্য, এবং অশুচি ওষ্ঠাধর জাতির মধ্যে বাস করিতেছি; আর আমার চক্ষু রাজাকে, বাহিনীগণের সদাপ্রভুকে, দেখিতে পাইয়াছে " (যিশাইয় ৬:৫)। পৌল একবার বলেছিলেন, "দুর্ভাগ্য মনুষ্য আমি! এই মৃত্যুর দেহ হইতে কে আমাকে নিস্তার করিবে?" (রোমীয় ৭:২৪)। প্রভু যীশুর পদাঙ্ক অনুসরণকারী প্রত্যেক সত্য ভাববাদীর হৃদয়ে এমন এক শোক ও আকাঙ্ক্ষা থাকবে-যেন তাঁর জীবন ঠিক সেই শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যা তিনি প্রচার করেন। কিন্তু মিথ্যা ভাববাদীরা কখনোই এ বিষয়টিতে বিচলিত হয় না যে, তাদের জীবনধারা তাদের প্রচারিত শিক্ষার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। একজন মিথ্যা ভাববাদী মূলত মানুষকে এটাই বলে: "বাইবেল হলো আমার প্রচার করার জন্য-আর আপনাদের সবার পালন বা অনুশীলন করার জন্য!"

পরিশেষে বলা যায়: এমনকি কোনো ভাববাদী যদি শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকেন, তবুও সময়ের সাথে সাথে তাঁর আন্দোলনটি অধঃপতন ও হ্রাসের দিকে ঝুঁকে পড়ে; কারণ শুরুতে যারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা ধীরে ধীরে আপস করতে শুরু করেন। ঈশ্বরের আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ভাববাদী বিষয়টি উপলব্ধি করেন এবং যথাসম্ভব এই 'বিচ্যুতি' বা 'পথভ্রষ্টতা' রোধ করার জন্য গভীর দায়বদ্ধতা অনুভব করেন। কিন্তু তিনি হয়তো সেই বিচ্যুতি রোধ করতে সফল হন না। আমরা জানি যে, পৌলের সহকর্মী দীমা তাঁকে পরিত্যাগ করেছিলেন (২ তীমথিয় ৪:১০)। দীমা কেন পৌলকে পরিত্যাগ করেছিলেন? কারণ পৌলের ওপর এই কাজের বিশুদ্ধতা বজায় রাখার এক গভীর দায়ভার ছিল, আর আপসকামিতা-প্রবণ দীমার কাছে সেই মানদণ্ডটি ছিল অসহনীয়। পরবর্তীকালে, এশিয়ার মণ্ডলীগুলোর আরও অনেকে পৌলকে পরিত্যাগ করেছিলেন (২ তীমথিয় ১:১৫)। যারা একসময় কোনো সত্য ভাববাদীর সাথে ঈশ্বরের আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন, তারা কেন পরে তাঁকে ছেড়ে যান? কারণ সেই ভাববাদী সম্পূর্ণ আপসহীন থাকেন এবং যেকোনো মূল্যে কেবল ঈশ্বরকেই সন্তুষ্ট করতে চান; তিনি কখনোই তাঁর কোনো অনুসারী বা অন্য কোনো মানুষকে খুশি করার চেষ্টা করেন না। তখন তাঁর অনেক অনুসারীই দূরে সরে যান, কারণ তারা সেই একই মূল্য দিতে বা ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকেন না।

একজন প্রকৃত ভাববাদী কখনোই বিশাল সব জনসমাগম আয়োজনের কাজে মগ্ন থাকেন না-আবার প্রচারের ক্ষেত্রেও তিনি কোনো কৌশলী বা সুবিধাবাদী আচরণ করেন না। যারা কৌশলী মনোভাবাপন্ন, তারাই বড় বড় সমাবেশের আয়োজন করতে চান এবং চান না যে কেউ তাদের দল ছেড়ে চলে যাক। প্রভু যীশু কখনোই এমন ছিলেন না। তিনি সবসময়ই মানুষকে বলতেন যে, যারা তাঁকে ছেড়ে যেতে চায়, তারা যেকোনো সময় তা করতে পারে। একজন প্রকৃত ভাববাদী ঠিক এভাবেই কাজ করেন। তাঁর মূল লক্ষ্য বা দায়বদ্ধতা হলো, আন্দোলনের গুণমান যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়। তাঁর রাজ্য এই জগতের নয়-তাই রক্ষা করার মতো কোনো পার্থিব রাজ্যও তাঁর নেই। এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে আমরা আমাদের সময়ের প্রকৃত ভাববাদীদের চিনতে পারি।

মনে রাখবেন, প্রভু যীশু বলেছিলেন যে আমরা যখনই কোনো সত্য ভাববাদীকে গ্রহণ করি, তখন আসলে আমরা স্বয়ং যীশুকে গ্রহণ করি। তাই আমাদের উচিত আমাদের সময়ে ঈশ্বরের সত্য ভাববাদীদের চিনে নেওয়া এবং তাঁদের সর্বান্তকরণে গ্রহণ করা। প্রভু যীশু আরও বলেছিলেন যে, যারা কোনো সত্য ভাববাদীকে গ্রহণ করে, তারা সেই ভাববাদীর প্রাপ্য পুরস্কারও লাভ করবে (মথি ১০:৪০, ৪১)।

আমাদের সবারই যে ভাববাদী হওয়ার আহ্বান রয়েছে, তা নয়। কিন্তু যখন আমরা কোনো প্রকৃত ভাববাদীকে দেখি, তখন আমাদের উচিত তাঁর পাশে দাঁড়ানো, তাঁর সাথে শিবিরের বাইরে যাওয়া এবং তাঁর সাথে সেই নিন্দা বা অপবাদ বহন করা। তাহলে আমরাও একজন ভাববাদীর পুরস্কার লাভ করব (ইব্রীয় ১৩:১৩)।

আসুন, আমরা যেন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই সত্যগুলো বিবেচনা করি এবং আমাদের জীবনে তা কাজে লাগাই। এর ফলে আমরা কেবল নিজেরা প্রতারিত হওয়া থেকেই রক্ষা পাব না, বরং আমাদের আশেপাশের আরও অনেককেও রক্ষা করতে পারব।

তাই যেন হয়।

যার শোনার কান আছে, সে শুনুক।