পুরাতন নিয়মের অধীনে, ইস্রায়েলীয়রা কেবলমাত্র মোশি এবং ভাববাদীদের মাধ্যমে ঈশ্বরের দেওয়া লিখিত বাক্য মেনে চলতে পারত। কেউ বলতে পারত না, "আমাকে অনুসরণ কর"-এমনকি মোশি, এলিয় বা যোহন বাপ্তাইজকের মতো মহান ভাববাদীরাও না। শুধুমাত্র ঈশ্বরের বাক্যই ছিল তাদের পথের আলো (গীতসংহিতা ১১৯:১০৫)।
কিন্তু প্রভু যীশু এসে এক নতুন নিয়ম শুরু করলেন। আর তিনি আমাদের কেবল ঈশ্বরের বাক্যই দেননি, বরং তাঁর জীবনের অনুসরণীয় একটি উদাহরণও দিয়েছেন। বাইবেলে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি বলেছিলেন, "আমার পশ্চাৎ আইস" (মথি ৪:১৯; যোহন ২১:১৯; লূক ৯:২৩)। তাই নতুন নিয়মে, আমাদের কাছে নির্দেশনার জন্য লিখিত বাক্য এবং প্রভু যীশুতে মাংসে সৃষ্ট বাক্য উভয়ই রয়েছে - অথবা অন্য কথায়, লিখিত বাক্য মানুষের জীবনে দৃশ্যমান হয়েছে।
প্রভু যীশু ফরীশীদের কেবল ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়ন করার এবং তাঁর কাছে না আসার জন্য তিরস্কার করেছিলেন: "তোমরা শাস্ত্র অনুসন্ধান করিয়া থাক, কারণ তোমরা মনে করিয়া থাক যে, তাহাতেই তোমাদের অনন্ত জীবন রহিয়াছে; আর তাহাই আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়; আর তোমরা জীবন পাইবার নিমিত্ত আমার নিকটে আসিতে ইচ্ছা কর না " (যোহন ৫:৩৯,৪০)।
এখন কেবল লিখিত বাক্য নয় বরং প্রভু যীশুর জীবন আমাদের পথের আলো (যোহন ১:৪)। যদি আমরা কোন বিষয়ে ঈশ্বরের বাক্যে স্পষ্ট নির্দেশনা খুঁজে না পাই, তাহলে আমরা প্রভু যীশুর জীবনের দিকে তাকাতে পারি (যেমন পবিত্র আত্মার দ্বারা আমাদের হৃদয়ে প্রকাশিত হয়েছিল) এবং আমরা সর্বদা একটি উত্তর খুঁজে পাব।
আরও: নতুন নিয়মে, পবিত্র আত্মা পৌলের মতো একজন ধার্মিক ব্যক্তিকেও বলতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, "যেমন আমি খ্রীষ্টের অনুকারী, তোমরা তেমনি আমার অনুকারী হও"। আর পবিত্র আত্মা তাকে তিনবার এই কথা বলতে বাধ্য করেছিলেন - এই বিষয়টির উপর জোর দেওয়ার জন্য যে আমাদেরও খ্রীষ্টের পদাঙ্ক অনুসরণকারী প্রকৃত ধার্মিক ব্যক্তিদের উদাহরণ অনুসরণ করা উচিত। (১ করিন্থীয় ৪:১৬; ১ করিন্থীয় ১১:১; ফিলিপীয় ৩:১৭)।
একজন প্রকৃত নতুন নিয়মের দাস কেবল লিখিত বাক্যে ঈশ্বরের মান ঘোষণা করেন না, বরং পৌল যেমন বলেছিলেন, "যেমন আমি খ্রীষ্টের অনুকারী, তোমরা তেমনি আমার অনুকারী হও"।
কিছু খ্রীষ্টান বলেন, "আমাদের কোনও ব্যক্তিকে অনুসরণ করা উচিত নয়। আমাদের কেবল প্রভু যীশুকে অনুসরণ করা উচিত।" এটি একটি আধ্যাত্মিক বক্তব্যের মতো মনে হচ্ছে। কিন্তু এটা ঈশ্বরের বাক্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ, আমরা যেমনটি দেখেছি, পৌল (পবিত্র আত্মার দ্বারা অনুপ্রাণিত) আমাদের বলেছিলেন তাঁকে অনুসরণ করতে।
পৌল করিন্থীয় খ্রীষ্টানদের তাঁকে অনুসরণ ও আনুগত্য করতে বলেছিলেন কারণ তিনি ছিলেন তাদের আধ্যাত্মিক পিতা। তিনি বলেছিলেন, "যদিও খ্রীষ্টে তোমাদের দশ সহস্র পরিপালক (শিক্ষক) থাকে, তথাচ পিতা অনেক নয়; কারণ খ্রীষ্ট যীশুতে সুসমাচার দ্বারা আমি তোমাদের জন্ম দিয়াছি। অতএব তোমাদিগকে বিনয় করি, তোমরা আমার অনুকারী হও।" (১ করিন্থীয় ৪:১৫, ১৬)। কেউ একজন বাইবেল শিক্ষককে অনুসরণ করতে পারে না - কারণ তার শিক্ষা ভালো এবং নির্ভুল হলেও, সে তার জীবনে একজন ভালো উদাহরণ নাও হতে পারে। উপরের স্তবক অনুসারে, একজন আধ্যাত্মিক পিতা ১০,০০০ বাইবেল-শিক্ষকের চেয়েও উত্তম। তাই সকল খ্রীষ্টানের জন্য পৌলের মতো একজন আধ্যাত্মিক পিতা থাকা ভালো, যার উদাহরণ তারা অনুসরণ করতে পারে। এইরকম একজন আধ্যাত্মিক পিতাকে অনুসরণ করলে আমরা পাপ এবং মিথ্যা শিক্ষা থেকে রক্ষা পেতে পারি।
পৌল খ্রীষ্টানদেরকে অন্যান্য ঈশ্বরীয় ব্যক্তিদের অনুসরণ করার জন্যও আহ্বান জানিয়েছিলেন যারা "খ্রীষ্টের উদাহরণ অনুসরণ করছিলেন", যেমনটি তিনি করছিলেন। তিনি বললেন, "তোমাদের জীবনে আমার মতো আরও বেশি কিছু করো, এবং যারা আমাদের উদাহরণ অনুসরণ করে তাদের কাছ থেকে শিখো" (ফিলিপীয় ৩:১৭ - NLT অনুবাদ)।
ঈশ্বরের বাক্য আমাদের নেতাদের আনুগত্য করতে এবং তাদের বিশ্বাস অনুকরণ করতেও আদেশ দেয়।
"তোমরা তোমাদের নেতাদিগের আজ্ঞাগ্রাহী ও বশীভূত হও" ইব্রীয় ১৩:৭)।
"যাঁহারা তোমাদিগকে ঈশ্বরের বাক্য বলিয়া গিয়াছেন, তোমাদের সেই নেতাদিগকে স্মরণ কর, এবং তাঁহাদের আচরণের (তাদের জীবনের) শেষগতি আলোচনা করিতে করিতে তাঁহাদের বিশ্বাসের অনুকরী হও" (ইব্রীয় ১৩:৭)।
আমাদের কারো সেবাকার্য্য অনুসরণ করার জন্য আহ্বান করা হয়নি, কারণ ঈশ্বর তাঁর প্রতিটি সন্তানকে এমন একটি অনন্য সেবাকার্য্য দেন যা অন্যর কাছে নাই। আমাদের মানব দেহের মতোই খ্রীষ্টের দেহেরও বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার সদস্য রয়েছে। প্রভু যীশু যখন লোকেদের তাঁকে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তখন তিনি আশা করেননি যে তারা তাঁর মতো অলৌকিক কাজ করবে অথবা এমনকি প্রচার করবে। এটাই ছিল তাঁর সেবাকার্য্য। তিনি লোকেদের তাঁর নিজের জীবনের উদাহরণ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন - অর্থাৎ, তিনি যে নীতিমালা অনুসরণ করেছিলেন সেই অনুসারে জীবনযাপন করার জন্য। একইভাবে, যখন পৌল বিশ্বাসীদেরকে তাঁর অনুকরণ করতে এবং খ্রীষ্টের অনুসারী হওয়ার মতো তাঁকে অনুসরণ করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তখন তিনি তাদের প্রেরিত হতে বা অসুস্থদের সুস্থ করতে বলছিলেন না, বরং তিনি যেমন জীবনযাপন করেছিলেন - খ্রীষ্ট যে নীতিমালা অনুসারে জীবনযাপন করেছিলেন সেই অনুসারে জীবনযাপন করতে বলছিলেন।
পবিত্র আত্মাই আমাদের উপরোক্ত পদগুলিতে ঈশ্বরীয় ব্যক্তিদের উদাহরণ অনুসরণ করার আদেশ দিয়েছেন। যারা তাদের অহংকারের কারণে ঈশ্বরীয় ব্যক্তিদের উদাহরণ অনুসরণ করে না, তারা সাধারণত জাগতিক লোকেদের অনুসরণ করে, অথবা তাদের নিজস্ব জীবনের প্রেরণাগুলিকে অনুসরণ করে। কিন্তু এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
ফিলিপীয় খ্রীষ্টানদের তাদের নিজস্ব এবং অন্যান্য ঈশ্বরীয় ব্যক্তিদের উদাহরণ অনুসরণ করার কথা বলার পরপরই (ফিলিপীয় ৩:১৭), পৌল তাদের অন্যদের উদাহরণ অনুসরণ না করার জন্য সতর্ক করে দেন: "কেননা অনেকে এমন চলিতেছে, যাহাদের বিষয়ে তোমাদিগকে বারবার বলিয়াছি, এবং এখনও রোদন করিতে করিতে বলিতেছি, তাহার খ্রীষ্টের ক্রুশের শত্রু। তাহাদের পরিণাম বিনাশ; উদর তাহাদের ঈশ্বর, এবং নিজ লজ্জাতেই তাহাদের গৌরব; তাহারা পার্থিব বিষয় ভাবে।" (ফিলিপীয় ৩:১৮,১৯)।
তবুও যদি তারা পৌলের উদাহরণ অনুসরণ করত, তাহলে তারা সেই অন্যান্য অধার্মিক লোকদের দ্বারা প্রতারিত হওয়া এড়াতে পারত।
এখানে সাতটি পরীক্ষার কথা বলা হল যার মাধ্যমে আপনি মূল্যায়ন করতে পারবেন যে কেউ সত্যিই একজন ঈশ্বরীয় ব্যক্তি কিনা যাকে অনুসরণ করা উচিত:
১. তিনি কি একজন নম্র ব্যক্তি - সহজে যোগাযোগযোগ্য এবং কথা বলা সহজ? প্রভু যীশু আমাদের তাঁর কাছ থেকে নম্রতা শেখার কথা বলেছেন (মথি ১১:২৯)। একজন ঈশ্বরীয় ব্যক্তি হলেন তিনি যিনি প্রভু যীশুর কাছ থেকে নম্রতা শিখেছেন।
২. তিনি কি টাকার প্রতি আসক্তি থেকে মুক্ত এবং যিনি কখনও কারো কাছ থেকে টাকা চান না (যতদূর আপনি জানেন)? একজন ঈশ্বরীয় ব্যক্তি প্রভু যীশুর উদাহরণ অনুসরণ করবেন, যিনি কখনও কারও কাছে টাকা চাননি, এমনকি তাঁর সেবাকার্যের জন্যও। প্রভু যীশু বলেছিলেন যে, যে ঈশ্বরকে প্রেম করে সে টাকাকে প্রেম করতে পারে না, আর যে ঈশ্বরকে প্রেম করে সে টাকাকে ঘৃণা করে (লূক ১৬:১৩)।
৩. তিনি কি তার জীবনে পবিত্র - বিশেষ করে মহিলাদের সাথে তার আচরণে (যতদূর আপনি জানেন)? একজন ঈশ্বরীয় ব্যক্তি কেবল যৌন কামনার প্রলোভন এড়াবে না বরং তা থেকে পালিয়ে যাবে (২ তীমথিয় ২:২০-২২)।
৪. যদি তিনি বিবাহিত হোন এবং তার সন্তান থাকে, তাহলে কি তিনি তার সন্তানদের ঈশ্বরীয় ভাবে লালন-পালন করেছেন? একজন ঈশ্বরীয়, বিবাহিত পুরুষ হবেন যার সন্তানরা বিশ্বাসী এবং যারা সুশৃঙ্খলভাবে বেড়ে ওঠে (১ তীমথিয় ৩:৪,৫; তীত ১:৬)।
৫. তার সাথে যোগদানের মাধ্যমে কি তার নিকটতম সহকর্মীরা ঈশ্বরীয় হয়ে উঠেছে? ঈশ্বরীয় ব্যক্তিরা আরও ঈশ্বরীয় মানুষ তৈরি করবেন। তীমথিয় তার আধ্যাত্মিক পিতা পৌলের সাথে থাকার মাধ্যমেন একজন ঈশ্বরীয় ব্যক্তি হয়ে ওঠেন (ফিলিপীয় ২:১৯-২২)।
৬. তিনি কি স্থানীয়ভাবে নতুন নিয়মের মণ্ডলী স্থাপন করেছেন (অথবা অন্যদের সাথে নির্মাণে সক্রিয় আছেন)? প্রভু যীশু তাঁর মণ্ডলী নির্মাণের জন্য পৃথিবীতে এসেছিলেন (মথি ১৬:১৮)। তিনি মণ্ডলী গঠনের জন্য নিজেকে মৃত্যুর কাছে সমর্পণ করেছিলেন (ইফিষীয় ৫:২৫)। ঈশ্বরীয় লোকেরা কেবল মানুষকে খ্রীষ্টের দিকে পরিচালিত করবে না, বরং তাদেরকে স্থানীয় মণ্ডলী হিসেবে গড়ে তুলবেন।
৭. তিনি কি আপনাকে খ্রীষ্টের সাথে সংযুক্ত করেন, নিজের সাথে নয়? একজন ঈশ্বরীয় ব্যক্তি কি আপনাকে খ্রীষ্টের সাথে সংযুক্ত করবেন, যাতে আপনি পরিবর্তন হতে পারেন এবং অন্যদের কাছে ঈশ্বরীয় ব্যক্তির উদাহরণ হতে পারেন? (ইফিষীয় ৪:১৫; ২ করিন্থীয় ৪:৫)।
আমরা বেশিরভাগ খ্রীষ্টান নেতাদের অনুসরণ করতে পারি না, কারণ তারা উপরোক্ত এক বা একাধিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হোন।
তবে, যদি আপনি এমন একজন ঈশ্বরীয় নেতা খুঁজে পান যার উপরোক্ত গুণাবলী রয়েছে, তাহলে তাকে আধ্যাত্মিক পিতা হিসেবে অনুসরণ করা আপনার জন্য ভালো হবে, কারণ তিনি আপনাকে ঈশ্বরের নিকটবর্তী হতে সাহায্য করবেন এবং এইভাবে পাপ এবং মিথ্যা শিক্ষা এড়াতে সাহায্য করবেন।
যার শোনার কান আছে, সে শুনুক।