যাকোব ৪:২-এর শেষ অংশে আমরা পড়ি, "কিছু প্রাপ্ত হও না, কারণ তোমরা যাচ্ঞা কর না"। ঈশ্বর খ্রীষ্টানদের অনেক কিছুই দিতে চান, কিন্তু তারা সেগুলি পান না কারণ তারা চায় না। আধ্যাত্মিক আশীর্বাদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য। লূক ১১:১৩ পদের কথা বিবেচনা করুন: "ইহা কত অধিক নিশ্চয় যে, স্বর্গস্থ পিতা, যাহারা তাঁহার কাছে যাচ্ঞা করে , তাহাদিগকে পবিত্র আত্মা দান করিবেন"। যিনি আমাদের পবিত্র করেন, সেই পবিত্র আত্মার আকাঙ্ক্ষা যদি আমাদের না থাকে, তবে প্রভু যীশুর আদর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করার সামর্থ্য আমরা কখনোই পাব না। ঠিক এই কারণেই মথি ৭:৭ পদে প্রভু যীশু বলেছিলেন, "যাচ্ঞা কর, তোমাদিগকে দেওয়া যাইবে"।
ঈশ্বর কেন আমাদের তাঁর কাছে চাওয়ার (যাচ্ঞা করার) জন্য অপেক্ষা করেন? কারণ তিনি চান যেন আমরা তাঁর দেওয়া উপহারের মূল্য করি। আমরা না চাইতেই তিনি যা দেন, সাধারণত আমরা তার মূল্য করি না। পাপের ক্ষমা-এটিই তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি কি তা চাওয়ার মাধ্যমেই পাননি? না চাইলে কি তা পেতেন? না চাইলে কি আপনি পরিত্রাণ লাভ করতেন? পৃথিবীতে এমন লক্ষ লক্ষ মানুষ আছেন যারা পরিত্রাণ পাননি, কারণ তাঁরা তা চাননি। তাঁদের যে পরিত্রাণ প্রয়োজন-এই সত্য স্বীকার করার মতো নম্রতা তাদের নেই।
ঈশ্বরের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক আশীর্বাদ লাভের জন্য আর কী কী প্রয়োজন? সর্বাগ্রে, সেগুলোর প্রতি আমাদের তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা তৃষ্ণা থাকতে হবে। এরপর, আমাদের বিশ্বাসের সাথে চাইতে হবে। চাওয়ার বিষয়টি সেই আকাঙ্ক্ষাকেই প্রকাশ করে; আর প্রভু যীশু পরবর্তী কয়েকটি পদের মধ্যে-মথি ৭:১১ পদে-বিশ্বাসের বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, "তোমরা মন্দ হইয়াও যদি তোমাদের সন্তানদিগকে উত্তম উত্তম দ্রব্য দান করিতে জান, তবে ইহা কত অধিক নিশ্চয় যে, তোমাদের স্বর্গস্থ পিতা, যাহারা তাঁহার কাছে যাচ্ঞা করে, তাহাদিগকে উত্তম উত্তম দ্রব্য দান করিবেন!"
আপনি যদি যাচ্ঞা না করেন; কিছু পাবেন না। আর অন্বেষণ করলে, আপনি খুঁজে পাবেন।
সত্য জানতে চাইলে আপনাকে তার সন্ধান করতে হবে। ঈশ্বরের বাক্যের মধ্যে রয়েছে
অমূল্য সব সম্পদ।
কিছু বিষয় আছে যা ওপরের স্তরেই থাকে এবং সবাই তা গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু এর
গভীরতম সম্পদগুলো থাকে ভেতরে-আর সেগুলোর অন্বেষণ আপনাকেই করতে হবে। পৃথিবীর কথা
একবার ভেবে দেখুন। এর উপরিভাগে আম, নারকেল ও অন্যান্য অনেক ভালো ফল পাওয়া যায়;
কিন্তু সোনা ও হীরের মতো অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ পেতে হলে আপনাকে মাটির হাজার
হাজার ফুট গভীরে খনন করতে হবে। একইভাবে, বাইবেলের উপরিভাগ থেকেও কিছু বিষয় জানা
যায়-যেমন কীভাবে আমাদের পাপ ক্ষমা হতে পারে (কারণ খ্রীষ্ট সেই পাপের জন্যই
প্রাণ দিয়েছিলেন)। কিন্তু আপনি যদি শাস্ত্রের গভীরতম সত্যগুলো জানতে চান-যেমন
কীভাবে আত্মায় পূর্ণ জীবন যাপন করা যায়, কীভাবে ঈশ্বরের স্বভাবের অংশীদার হওয়া
যায় এবং কীভাবে সমস্ত পাপ, ক্রোধ, তিক্ততা, ক্ষমা না করার মনোভাব, ঈর্ষা ও যৌন
লালসা জয় করা যায়-তবে আপনাকে গভীরভাবে অনুসন্ধান করতে হবে। কেউ যদি গভীরভাবে
অনুসন্ধান না করে, তবে ঈশ্বর বোঝেন যে তার আসলে কোনো আগ্রহ নেই। "যাচ্ঞা
কর,তোমাদিগকে দেওয়া যাইবে। সর্বান্তঃকরণে অন্বেষণ কর,তুমি
খুঁজেপাইবে"।
।
যিরমিয় ২৯:১৩ পদে আমরা এই প্রতিজ্ঞাটি পাই: "যখন তোমরা সর্বান্তঃকরণে আমার অন্বেষণ করিবে , আমাকে পাইবে।" যদি কোনো ব্যক্তি ঈশ্বরকে এবং তাঁর মধ্যে নিহিত সেই অঢেল সম্পদকে খুঁজে না পেয়ে থাকেন, তবে আমি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করেই বলতে পারি যে, সেই ব্যক্তি সর্বান্তঃকরণে ঈশ্বরের অন্বেষণ করেননি। তিনি হয়তো অর্ধেক মন নিয়ে চেষ্টা করেছেন, আর ধর্মশাস্ত্রে অর্ধেক-মনোভাবাপন্নদের জন্য কোনো প্রতিজ্ঞা নেই। এমনকি তিন-চতুর্থাংশ মন দিয়ে চেষ্টা করলেও কোনো প্রতিজ্ঞা পাওয়া যায় না; কিন্তু যারা সর্বান্তঃকরণে চেষ্টা করেন, তাদের জন্য রয়েছে বিশাল সব প্রতিজ্ঞা। আপনি ঈশ্বরের খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেন; আপনি নিজেকে ৯০ শতাংশ ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করতে পারেন, কিন্তু তাতে আপনি হয়তো সেই ব্যক্তির চেয়ে বেশি কিছু পাবেন না যিনি নিজেকে মাত্র ১০ শতাংশ সমর্পণ করেছিলেন। কিন্তু যখন আপনি নিজেকে ১০০ শতাংশ ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করেন, তখন আপনি সবকিছুই লাভ করেন। যদি আপনি ৯০ শতাংশ সমর্পণ করেন, তবে আপনি সেই ব্যক্তির মতোই একই শ্রেণিতে পড়েন যিনি মাত্র ১০ শতাংশ সমর্পণ করেছিলেন। খ্রীষ্টানরা ঠিক এই বিষয়টিই উপলব্ধি করতে পারেন না। হৃদয়ের মাত্র ১০ শতাংশ দিয়ে ঈশ্বরের অন্বেষণ করুন-আপনি তাঁকে পাবেন না। হৃদয়ের ৯০ শতাংশ দিয়ে তাঁর অন্বেষণ করুন-তবুও আপনি তাঁকে পাবেন না। কিন্তু সর্বান্তঃকরণে ঈশ্বরের অন্বেষণ করুন-তখন আপনি অবশ্যই তাঁকে খুঁজে পাবেন।
"অন্বেষণ কর,পাইবে; দ্বারে আঘাত কর, তোমাদের জন্য খুলিয়া দেওয়া যাইবে।"এগুলো হলো প্রতিজ্ঞা। ঈশ্বর কখনোই তাঁর প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেন না। "যে কেউ চায়, সে-ই পায়।" আপনি কেন পাননি? নিশ্চয়ই আপনি ঈশ্বরের অভিপ্রেত উপায়ে যাচ্ঞা করেননি। "যে অন্বেষণ করে, সে-ই পায়।" হয়তো আপনি ঈশ্বরের অভিপ্রেত উপায়ে খোঁজ করেননি। "যে দরজায় আঘাত করে, তার জন্যই তা খুলে দেওয়া হয়।" হয়তো আপনি যথেষ্টভাবে আঘাত করেননি।
এমন অসংখ্য বিষয় রয়েছে যা খ্রীষ্টানরা কেবল ঈশ্বরের কাছে না চাওয়ার কারণেই পায়নি। যাকোব ৪:২-এর শেষের এই ছোট্ট বাক্যটি মনে রাখুন: "ঈশ্বর তোমাকে যা দিতে চান ,তা তোমার কাছে নেই কারণ তুমি তা যাচ্ঞা কর না।"