যে কেউ প্রভুর সেবা করবেন, সে শয়তানের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবেন। আমরা ঈশ্বরের কাছে যত বেশি উপকারী হবো, তত বেশি শত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হবো। আমরা তা এড়াতে পারব না। শয়তান আমাদের অপবাদ, মিথ্যা অভিযোগ এবং মন বানানো গল্পের মাধ্যমে আক্রমণ করবে। এবং সে আমাদের স্ত্রী এবং সন্তানদেরও আক্রমণ করবে।
প্রভু যীশুর জীবদ্দশায় লোকেরা তাঁর সম্পর্কে যে মন্দ কথা বলেছিল এবং আজও তারা তাঁর সম্পর্কে যা বলে, একবার ভাবুন। তারা তাঁকে পেটুক ও মদ্যপায়ী (লূক ৭:৩৪), হতজ্ঞান (মার্ক ৩:২১), ভূতগ্রস্ত (যোহন ৮:৪৮) এবং ভূতগণের অধিপতি (মথি ১২:২৪) এবং এই জাতীয় আরও অনেক মন্দ নাম দিয়েছিল। তারা বলেছিল যে তিনি একজন ধর্মদ্রোহী, বাইবেল এবং মোশির শিক্ষার বিপরীতে মতবাদ প্রচার করছেন (যোহন ৯:২৯)। এভাবেই তারা লোকেদের প্রভুর কথা শোনা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তিনি কখনও এই ধরণের লোকদের উত্তর দিতে বিরক্ত হননি। তিনি কখনও একটিও ব্যক্তিগত অভিযোগের উত্তর দেননি। আমাদেরও তা করা উচিত নয়। প্রভু যীশু কেবল মতবাদ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। আজ, লোকেরা আমাদের প্রভু সম্পর্কে এমনকি অনৈতিক কথাও বলে। কিন্তু ঈশ্বর তাদের বিচার করার জন্য নেমে আসেন না।
তারা পৌলকে একজন প্রতারক এবং ভণ্ড ভাববাদী বলে অভিহিত করেছিল, এবং বলত যে, তিনি এমন এক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত যার বিরুদ্ধে সর্বত্রই নিন্দা করা হতো (প্রেরিত ২৪:১৪; ২৮:২২)। এভাবে তারা লোকেদের পৌলের কথা শোনা থেকেও বিরত রাখত।
মণ্ডলীর ইতিহাস জুড়ে ঈশ্বরের প্রতিটি মহান ব্যক্তির সাথে একই ঘটনা ঘটেছে - জন ওয়েসলি, চার্লস ফিনি, উইলিয়াম বুথ, ওয়াচম্যান নী এবং ঈশ্বরের অন্য সকল সত্য ভাবভাদীর সাথে।
আমরা কি প্রভু যীশুর মতো হওয়ার জন্য এত মূল্য দিতে ইচ্ছুক? নাকি আমরা এখনও মানুষের সম্মান খুঁজছি?
ঈশ্বর আমাদের এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নিয়ে যান-যেখানে আমরা ভুল বোঝাবুঝির শিকার হই, ভুলভাবে বিচারিত হই, মিথ্যা অপবাদের সম্মুখীন হই এবং জনসমক্ষে অপমানিত হই-যাতে তিনি আমাদের অহংকার চূর্ণ করে আমাদের গড়ে তুলতে পারেন। এমন সব পরিস্থিতিতে, যারা আমাদের হেনস্থা করছে, তাদের দিকে দৃষ্টি দেওয়া থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। তারা আমাদের ভাই হোক বা শত্রু, তাতে কিছু যায় আসে না। কারণ প্রতিটি ঈষ্করিয়োতীয় যিহূদার হাতের আড়ালে আমাদের স্বর্গীয় পিতার হাতই কাজ করে, যিনি আমাদের পান করার জন্য একটি পেয়ালা তুলে দিচ্ছেন। যদি আমরা এমন পরিস্থিতিতে পিতার সেই হাতকে দেখতে পাই, তবে সেই পানীয় যতই তিক্ত ও যন্ত্রণাদায়ক হোক না কেন, আমরা তা আনন্দের সাথে পান করব। কিন্তু যদি আমরা কেবল যিহূদাকেই দেখি, তবে আমরা (পিতরের মতো) আমাদের তলোয়ার বের করব এবং মানুষের কান (কিংবা তাদের সুনাম) বা অন্য কিছু কেটে ফেলতে উদ্যত হব।
যখন আমরা আক্রমণের বা মিথ্যা অপবাদের শিকার হই, তখন ঈশ্বর চান যেন আমরা তাঁর পরাক্রমশালী হাতের নিচে নিজেদের নম্র রাখি। যখন আমরা বুঝতে পারি যে সেখানে মানুষের নয়, বরং ঈশ্বরেরই হাত রয়েছে, তখন এমনটা করা সহজ হয়ে যায়।
গত কয়েক বছরে আমি অনেক 'বিশ্বাসীকে' আমার ও আমার শিক্ষার বিরুদ্ধে নানা রকম মন্দ কথা বলতে শুনেছি। তারা আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগও তুলেছে এবং আমার বিরুদ্ধে নানা নিবন্ধ ও বই লিখেছে। কিন্তু প্রভু আমাকে সবসময়ই বলেছেন যেন আমি তাদের কথার কোনো উত্তর না দিই। তাই আমি নীরব থেকেছি। এর ফলে প্রভু আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের জীবনে পবিত্রকরণের এক মহান কাজ সম্পন্ন করেছেন! ঈশ্বর মন্দ বিষয়কেও আমাদের মঙ্গলের জন্য কাজে লাগান।
আমি জানি, প্রভুর নিজস্ব সময়ে তিনিই মেঘ সরিয়ে সূর্যকে উজ্জ্বল করে তুলবেন। কিন্তু সেই সময় তিনিই নির্ধারণ করেন, আমি নই (যেমনটি আমরা প্রেরিত ১:৭ পদে পড়ি)। সেই সময় পর্যন্ত আমার কাজ হলো তাঁর পরাক্রমশালী হাতের নিচে নিজেকে নম্র রাখা। কারও সামনে নিজেকে ন্যায়পরায়ণ বা সঠিক প্রমাণ করা আমার কাজ নয়। একবার যদি আমি তা করতে শুরু করি, তবে অন্য কোনো কাজ করার মতো সময় আর আমার থাকবে না।
পৌল যেমন আলেকসান্দর কাংস্যকার সম্পর্কে বলেছিলেন, প্রভু নিজেই একদিন আমাদের শত্রুদের তাদের কাজের উপযুক্ত প্রতিফল দেবেন (২ তীমথিয় ৪:১৪)। তাই আমরা প্রতিশোধের এই বিষয়গুলি নিশ্চিন্ত মনে তাঁর হাতেই ছেড়ে দিতে পারি (রোমীয় ১২:১৯)।
সব কিছু ঈশ্বরের উপর ছেড়ে দেওয়াই ভালো। তিনি জানেন তিনি কী করছেন এবং সবকিছুই তাঁর নিয়ন্ত্রণে। তিনি আমাদের মধ্যে প্রভু যীশুর প্রতিমূর্তি গড়ে তোলার জন্য পাথর খোদাই করে চলেছেন। পাথরের কিছু কিছু অংশ খুবই কঠিন এবং সেই অংশগুলো কেটে বাদ দেওয়ার জন্য তাঁকে মিথ্যা অভিযোগ এবং তাড়না ব্যবহার করতে হচ্ছে। যদি আমরা তাঁর খোদাই কৌশলের কাছে আত্মসমর্পণ করি, তাহলে আমরা শেষ পর্যন্ত আধ্যাত্মিক কর্তৃত্বসম্পন্ন খ্রীষ্টসদৃশ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠব।
যিহূদা ঈষ্করিয়োতীয় যখন প্রভু যীশুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, তখন যীশু তাকে "বন্ধু" বলে সম্বোধন করতে পেরেছিলেন, কারণ তিনি তাতে স্পষ্টভাবে তাঁর পিতার হাত দেখতে পাচ্ছিলেন। আমরা যদি আমাদের সমস্ত পরিস্থিতিতে ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বকে দেখতে পাই, তাহলে নিজেদেরকে নম্র করা সহজ হবে। আর তখন উপযুক্ত সময়ে ঈশ্বরের পক্ষে আমাদেরকে উন্নীত করা সহজ হবে। আমাদের কাঁধ থেকে বোঝা নামিয়ে নেওয়া এবং আমাদের তাঁর কর্তৃত্ব প্রদান করার সঠিক সময়টি ঈশ্বর জানেন। তাই আসুন, আমরা তাঁর জন্য অপেক্ষা করি। যিনি তাঁর জন্য অপেক্ষা করেন, তিনি কখনোই হতাশ বা লজ্জিত হবেন না (যিশাইয় ৪৯:২৩)।