লিখেছেন :   জ্যাক পুনেন বিভাগগুলি :   গৃহ মণ্ডলী শিষ্য
WFTW Body: 

আমাদের সিএফসি (CFC) মণ্ডলীগুলোতে আমরা মৃত্যুর পর কীভাবে স্বর্গে যাওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রচার করি না। প্রভু যীশু আমাদের বলেছিলেন সব জাতির মধ্যে গিয়ে শিষ্য তৈরি করতে এবং তিনি যা যা আদেশ দিয়েছেন তা তাদের শেখাতে-নরক থেকে রক্ষা পেয়ে স্বর্গে যাওয়ার উপায় শেখাতে নয়!! কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আজকাল সুসমাচার প্রচারের ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর স্বর্গে যাওয়ার বিষয়টির ওপরই বেশি জোর দেওয়া হয়। আমি সেই সুসমাচার প্রচার করি না, কারণ মানুষকে স্বর্গে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। ওটা ঈশ্বরের কাজ। আমি পৃথিবীতে যীশু খ্রীষ্টের জন্য শিষ্য তৈরি করার এবং প্রভু যীশুর সমস্ত আদেশ মেনে চলার বিষয়ে তাদের শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করি। মথি ২৮:১৮-২০ পদে প্রভু আমাদের স্পষ্টভাবে এই দায়িত্বই দিয়েছেন। আর গত ৫০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত আমাদের সিএফসি মণ্ডলীগুলোতে আমরা ঠিক সেটাই করার চেষ্টা করে আসছি।

আমার সুসমাচার হলো-কীভাবে এই পৃথিবীতে যীশু খ্রীষ্টের শিষ্য হওয়া যায় এবং প্রতিদিন তাঁকে অনুসরণ করা যায়। যীশু বলেছিলেন যে, একটি ছোট ফটক ও সংকীর্ণ পথ রয়েছে যা অনন্ত জীবনের দিকে নিয়ে যায় (মথি ৭:১৪)। আমরা আমাদের পাপের জন্য অনুতাপ করে এবং খ্রীষ্টের মৃত্যু ও পুনরুত্থানে বিশ্বাস স্থাপন করে সেই সংকীর্ণ ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে পারি। এরপর আমাদের সেই সংকীর্ণ পথে চলার আহ্বান জানানো হয়-যেখানে প্রতিদিন নিজের ক্রুশ তুলে নেওয়া, 'নিজ'-কে বা অহং-কে বিসর্জন দেওয়া, জীবনে খ্রীষ্টকে সর্বপ্রধান স্থান দেওয়া এবং তাঁকে অনুসরণ করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। এটিই হলো জীবন ও শিষ্যত্বের সেই পথ যা যীশু উক্ত পদটিতে শিখিয়েছেন-এবং এটিই অনন্ত জীবনের সেই পথ যা আমরা আমাদের সমস্ত মণ্ডলীতে শিক্ষা দিয়ে থাকি।

শিষ্যত্ব গ্রহণের বিষয়ে প্রভু যীশু লূক ১৪:২৬ পদে বলেছিলেন, "যদি কেহ আমার নিকটে আইসে, আর আপন পিতা, মাতা, স্ত্রী, সন্তানসন্ততি, ভ্রাতৃগণ ও ভগিনীগণকে এমন কি, নিজ প্রাণকেও অপ্রিয় জ্ঞান না করে, তবে সে আমার শিষ্য হইতে পারে না।" প্রভু যীশু সেই পদে যেমনটি বলেছিলেন-অর্থাৎ আপনজনদের ঘৃণা করার বিষয়ে-তেমন কথা কাউকে প্রচার করতে আপনি কতবার শুনেছেন? অথচ প্রভু যীশুর শিষ্য হওয়ার জন্য এটিই হলো প্রধান শর্ত। আর যীশু আমাদের আদেশ দিয়েছেন সর্বত্র শিষ্য তৈরি করতে-শুধুমাত্র ধর্মান্তরিত লোক নয়। তাই আমরা যদি শিষ্য তৈরি করতে চাই, তবে অন্য কিছু শেখানোর আগেই আমাদের তাদের শিষ্যত্বের এই প্রধান শর্তটি শেখাতে হবে।

একটি শিশু যখন স্কুলে ভর্তি হয়, তখন তাকে প্রথমেই পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়ন শেখানো হয় না। না, তাকে প্রথমেই শেখানো হয় বর্ণমালা-অর্থাৎ 'এ-বি-সি' (ABC)। একইভাবে, যারা আমাদের মণ্ডলীতে যোগ দেয়, তাদেরও সবার আগে শিষ্যত্বের 'বর্ণমালা' শেখাতে হবে-আর তা হলো যীশুকে সর্বাপেক্ষা বেশি প্রেমও করা। যারা এই শর্ত পূরণ করতে চায় না, তাদের শুরুতেই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে হবে যে, তারা প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শিষ্য হতে পারবে না। আর শিষ্যদের মধ্যে কোনো 'দ্বিতীয় শ্রেণি' বা নিম্নমানের কোনো স্তর নেই। শিষ্যদের কেবল একটিই শ্রেণি রয়েছে-আর তারা হলেন তারাই, যারা "পিতা, মাতা, স্ত্রী, সন্তানসন্ততি, ভ্রাতৃগণ ও ভগিনীগণকে এমন কি, নিজ প্রাণকেও অপ্রিয় জ্ঞান করে"(লূক ১৪:২৬)।

প্রভু যীশুর এই দাবিকে আমরা কীভাবে শাস্ত্রের অন্যান্য আদেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করব-যেমন 'পিতা-মাতাকে সম্মান করা', 'খ্রীষ্ট যেমন মণ্ডলীকে প্রেম করেছেন, তেমনি নিজের স্ত্রীকে প্রেম করা' এবং আমাদের সন্তানদের ও ভাই-বোনদের প্রেম করা?

প্রভু যীশু তাঁর বার্তার মূল বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বোঝানোর জন্য প্রায়শই বিভিন্ন দৃষ্টান্ত ব্যবহার করতেন। তাই, পরিবারের সদস্যদের প্রতি প্রেমঘৃণা-আপাতদৃষ্টিতে পরস্পরবিরোধী এই দুটি আদেশের অর্থ বোঝার জন্য আমিও একটি দৃষ্টান্ত খুঁজছিলাম। আর যে দৃষ্টান্তটি আমার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করে তুলেছে তা হলো এই: বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান ও ভাই-বোনদের প্রতি আমার প্রেমকে আমি তারার আলোর সাথে তুলনা করি-যে আলো উজ্জ্বল ও নির্মল এবং যাতে বিন্দুমাত্র অন্ধকার নেই; পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমাদের যে প্রেম থাকা উচিত, এটি তারই এক প্রতিচ্ছবি। কিন্তু সকালে যখন সূর্য ওঠে, তখন তারারা আর দেখা যায় না। তারা তখনও সেখানে থাকে, কিন্তু আমরা তাদের দেখতে পাই না। ঠিক তেমনই, খ্রীষ্টের প্রতি আমার প্রেম হতে হবে সূর্যের আলোর মতো-যে আলোর তীব্রতায় পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমার প্রেম নগণ্য মনে হয়। পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমার প্রেম তখনও বিদ্যমান থাকে (যেমন সকালে তারারা তখনও আকাশে থাকে)। কিন্তু খ্রীষ্টের প্রতি আমার প্রেম এতটাই গভীর যে, অন্য সবার প্রতি আমার প্রেম এখন খ্রীষ্টের প্রতি সেই প্রেমের মধ্য দিয়েই প্রকাশিত হয়। এর অর্থ হলো, খ্রীষ্টের প্রতি আমার প্রেম এতটাই প্রবল যে, আমি কখনোই আমার স্ত্রী, পিতামাতা বা কাছের কাউকে আমার ও খ্রীষ্টের মাঝখানে আসতে দেব না। এখন থেকে আমি অন্য সবাইকে প্রেম করব কেবল খ্রীষ্টের প্রতি আমার সেই সর্বোচ্চ প্রেমের মধ্য দিয়েই।

প্রভু যীশু বলেছিলেন, "আমি আমার মণ্ডলী গড়ে তুলব।" একমাত্র তিনিই তা গড়ে তুলতে পারেন। আমরা কেবল তাঁর দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-কেউ জিহ্বার মতো, কেউ হাতের মতো, আবার কেউ বা পায়ের মতো। আর যেসব বিশ্বাসী খুব একটা দৃশ্যমান নন, তাঁরা দেহের সেই সব অঙ্গের মতো যা বাইরে থেকে দেখা যায় না। কিন্তু খ্রীষ্টই হলেন সেই মস্তক, যিনি তাঁর দেহকে গড়ে তোলেন। আমরা কেবল নিজেদের তাঁর কাছে সমর্পণ করতে পারি, যাতে তাঁর দেহের অঙ্গ হিসেবে তিনি আমাদের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং তাঁর প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারেন। হাত বা পা নিজের ইচ্ছায় কিছুই করতে পারে না; মস্তকই হাতকে বলে দেয় কী করতে হবে এবং পা-কে বলে দেয় কোথায় যেতে হবে। খ্রীষ্টের প্রতি আমাদেরও ঠিক সেভাবেই বশবর্তী হতে হবে। এভাবেই খ্রীষ্টের দেহ কাজ করে ও গড়ে ওঠে-আর আমরা ঠিক এই বিষয়টির ওপরই জোর দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

কিন্তু ঈশ্বর যখন কাউকে কিছুটা ব্যবহার করতে শুরু করেন এবং কোনো স্থানে 'খ্রীষ্টের দেহ' (মণ্ডলী) গড়ে ওঠার অলৌকিক ঘটনাটি সেই ব্যক্তি দেখতে পান, তখন আধ্যাত্মিক অহংকারের এক বড় ঝুঁকি তৈরি হয়। ঈশ্বর যখন আমাদের আশীর্বাদ করেন, তখন অহংকার খুব সহজেই আমাদের গ্রাস করতে উদ্যত হয়। আমরা হয়তো ভাবতে শুরু করি যে, আমরাই সেই স্থানীয় মণ্ডলীটি গড়ে তুলেছি অথবা আমরাই সেই মানুষদের খ্রীষ্টের কাছে নিয়ে এসেছি। আর ঈশ্বরের কোনো সেবক বা কোনো মণ্ডলী যখন অহংকারী হয়ে ওঠে, তখন ঈশ্বর অবিলম্বে সেই ব্যক্তি ও মণ্ডলীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

আসুন, আমরা সবাই ঈশ্বরকে ভয় করি এবং প্রতিদিন তাঁর আত্মার শক্তি অন্বেষণ করি, যাতে আমরা আমাদের জীবনের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশ করতে পারি এবং এই শেষ সময়ে তাঁর মণ্ডলী গড়ে তুলতে পারি।

আমেন।