লিখেছেন :   জ্যাক পুনেন বিভাগগুলি :   ঈশ্বরকে জানা শিষ্য
WFTW Body: 

"সঙ্কীর্ণ দ্বার দিয়ে প্রবেশ কর; কেননা সর্ব্বনাশে যাইবার দ্বার প্রশস্ত ও পথ পরিসর, এবং অনেকেই তাহা দিয়া প্রবেশ করে; কেননা জীবনে যাইবার দ্বার সঙ্কীর্ণ ও পথ দুর্গম, এবং অল্প লোকেই তাহা পায়" (মথি ৭:১৩-১৪)।

ধ্বংস হলো অনন্ত নরক। যীশু কি পর্বতের উপর উপদেশে নরকের বিষয়ে বলেছিলেন? তিনি অবশ্যই বলেছিলেন। তিনি তিনবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন। আসুন, ধ্বংসের পথটি দেখা যাক। মথি ৫:২২ পদে যীশু বলেছেন, "আমি তোমাদিগকে কহিতেছি, যে কেহ আপন ভ্রাতার প্রতি ক্রোধ করে, সে বিচারের দায়ে পড়িবে; আর যে কেহ আপন ভ্রাতাকে বলে, 'রে নির্ব্বোধ,' সে মহাসভার দায়ে পড়িবে। আর যে কেহ বলে, 'রে মুঢ়,', সে অগ্নিময় নরকের দায়ে পড়িবে।" আবার, যীশু মথি ৫:২৮ পদে বলেন, "আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, যে কেহ কোন স্ত্রীলোকের প্রতি কামভাবে দৃষ্টিপাত করে, সে তখনই মনে মনে তাহার সহিত ব্যভিচার করিল।" অন্যথায়, মথি ৫:৩০ পদে যীশু যেমনটি বলেছেন, আপনাকে নরকে নিক্ষেপ করা হতে পারে। সেটিই হলো ধ্বংসের পথ। অনিয়ন্ত্রিত ক্রোধ ও অনিয়ন্ত্রিত যৌন আকাঙ্ক্ষার পথটি হলো প্রশস্ত পথ, আর অসংখ্য মানুষ সেই পথে চলে। পৃথিবী এমন সব মানুষে পূর্ণ যারা ক্রুদ্ধ এবং যৌন লালসা ও অনিয়ন্ত্রিত পাপপূর্ণ যৌন আকাঙ্ক্ষায় মত্ত-যারা দরিদ্র নারীদের শোষণ করে এবং এ ধরনের কাজে লিপ্ত। সেটিই হলো ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া প্রশস্ত পথ।

কেউ যদি নিজেকে 'নতুন জন্মপ্রাপ্ত' (born-again) খ্রীষ্টান বলে দাবি করেন, অথচ ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি দেখেন-যেখানে শোষণের শিকার অসহায় নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে-তবে কী হবে? আর যদি সেই খ্রীষ্টান ব্যক্তিটি বাইরে নিজের ক্রোধ প্রকাশ করেন, তবে কী হবে? এটিই ধ্বংসের পথ। তিনি নিজেকে খ্রীষ্টান বলুন বা অ-খ্রীষ্টান, তাতে কিছুই যায় আসে না; তিনি ধ্বংসের পথেই রয়েছেন। এটিই সেই প্রশস্ত পথ।

কিছু প্রচারক সেই পথটিকে প্রশস্ত করে তোলেন-তাঁরা বলেন যে আমাদের এতটা সংকীর্ণমনা হওয়ার প্রয়োজন নেই, অথচ বাইবেল বলে যে কেবল যাঁরা এই বিষয়গুলোকে জয় করেন, তাঁরাই অনন্ত জীবনে প্রবেশ করবেন। না, তাঁরা প্রভু যীশুর শেখানো পথের চেয়ে সেই প্রবেশপথকে আরও প্রশস্ত করে দেখান। প্রভু যীশু বলেছিলেন যে জীবনের পথটি অনেকটা সূঁচের ছিদ্রের মতো। একটি উট কি সূঁচের ছিদ্র দিয়ে যেতে পারে? না। যীশু বলেছিলেন, ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করার চেয়ে একটি উটের পক্ষে সূঁচের ছিদ্র দিয়ে যাওয়া অনেক সহজ-অর্থাৎ, যে ব্যক্তি নিজের সম্পদে বা অহংকারে ধনী, তার পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকারী হওয়া অত্যন্ত কঠিন। আমাদের সম্পদ বলতে কেবল পার্থিব ধন-সম্পদকেই বোঝায় না; এটি আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাও হতে পারে। শাস্ত্রের বিষয়ে আলোচনার সময় আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তি-তর্কও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আমরা অনেক সময় বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের বাক্যের গুরুত্বকে খাটো করে ফেলি। ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া প্রশস্ত পথ দিয়ে আপনি ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না। কিন্তু জীবনের দিকে নিয়ে যাওয়া পথটি সংকীর্ণ এবং তার প্রবেশদ্বারটিও ছোট। পাহাড়ের ওপর দেওয়া সেই বিখ্যাত উপদেশে প্রভু যীশু এই পথের কথাই প্রচার করেছিলেন। প্রভু যীশু যা বলছেন তা হলো, "আমি এখানে এ পর্যন্ত যা কিছু বলেছি, তা একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ প্রবেশপথ ও সংকীর্ণ পথের কথা-কিন্তু এটিই সেই পথ যা জীবনের দিকে নিয়ে যায়। খুব কম মানুষই এই পথের সন্ধান পায়।" আপনি কি আশা করেন যে বিপুল সংখ্যক মানুষ পাহাড়ের ওপর দেওয়া সেই উপদেশে বর্ণিত পথটি বেছে নেবে? মোটেও না।

'পাহাড়ে দত্ত উপদেশ' (Sermon on the Mount) অ-খ্রীষ্টানদের জন্য নয়; এটি তাদের জন্যও নয় যারা প্রভু যীশুর শিষ্য নন। এটি মূলত তাদের জন্য যারা ইতিমধ্যে অনুতাপ ও ​​খ্রীষ্টের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে নিজেদের জীবনে আধ্যাত্মিক ভিত্তি স্থাপন করেছেন, যারা নতুন জন্ম লাভ করেছেন এবং ঈশ্বরের সন্তান হয়েছেন। কেউ যদি সেই প্রাথমিক পদক্ষেপটি না নিয়ে পাহাড়ে দত্ত উপদেশমালা মেনে চলার চেষ্টা করেন, তবে তিনি এমন একজন ব্যক্তির মতো হবেন যিনি কোনো ভিত্তি ছাড়াই বাড়ি তৈরি করছেন। কিন্তু এখানে সেইসব শিষ্যের কথা বলা হচ্ছে যারা প্রভুকে অনুসরণ করতে সচেষ্ট। তারা দেখতে পাবেন যে এটি একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ পথ বা প্রবেশদ্বার এবং খুব কম মানুষই তা খুঁজে পায়। তাই মথি ৫-৭ অধ্যায়ে বর্ণিত বিষয়গুলো পালন করার জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষ দলে দলে এগিয়ে আসবে-এমনটা আমি আশা করি না।

যখন আপনি হাজার হাজার মানুষের সমাগমসহ বিশাল সব গির্জা দেখেন, তখন হয়তো ভাবেন-এরাই কি সেই 'অল্প সংখ্যক' মানুষ যারা জীবনের পথ খুঁজে পেয়েছে? নাকি এরা কোনো ভণ্ড প্রচারকের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া সেই প্রশস্ত পথেই পা বাড়িয়েছে? আমরা তাদের কারো বিচার করতে চাই না। কোনো এক ছোট এলাকায় যদি ত্রিশ হাজার মানুষ 'পাহাড়ে দত্ত উপদেশ' মেনে চলতে এবং প্রভু যীশুকে অনুসরণ করতে চায়, তবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হব। আমি খুশি হতাম যদি এমন একটি মণ্ডলী থাকত যেখানে তিন লক্ষ মানুষ খ্রীষ্টকে অনুসরণ করতে চায়। কিন্তু পৃথিবীতে খ্রীষ্টকে অনুসরণ না করে কেবল স্বর্গে যেতে চায়-এমন তিন লক্ষ মানুষ দেখলে আমি খুশি হতাম না। আমার পর্যবেক্ষণে যা দেখেছি, তা হলো-অধিকাংশ গির্জায় সমবেত মানুষরা পৃথিবীতে খ্রীষ্টকে অনুসরণ না করেই স্বর্গে যেতে চায়। সেটি যীশু খ্রীষ্টের প্রকৃত গির্জা নয়। সেটি এমন এক গির্জা যার বিরুদ্ধে নরকের দ্বার নিশ্চিতভাবেই জয়ী হবে; সেখানে প্রচারকরা প্রবেশপথটিকে এতটাই প্রশস্ত করে রেখেছেন যে, কোনো মূল্য না দিয়েই বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে প্রবেশ করতে পারে। সেই প্রবেশপথটি এতটাই প্রশস্ত যে, আপনি অর্থকে ভালোবাসার পাশাপাশি নিজেকে ঈশ্বরের প্রেমিক বলেও ভাবতে পারেন। তারা প্রবেশপথটিকে প্রশস্ত করেছে এবং নিজেদের এই বলে প্রতারিত করছে যে, তারা সেই গির্জায় যীশুর শিষ্য তৈরি করছে।

আমাদের স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে যে, 'পাহাড়ে দত্ত উপদেশ'-এর একেবারে শেষ পর্যায়ে প্রভু যীশু ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, জীবনদায়ক সেই প্রবেশপথটি খুব ছোট ও এবং সেই পথটি খুবই সংকীর্ণ; আর খুব কম মানুষই আসলে তা খুঁজে পায়।

এরপরই তিনি বলেন, "ভাক্ত ভাববাদীগণ হইতে সাবধান" (মথি ৭:১৫)। এই অংশের প্রেক্ষাপটে আমাদের বুঝতে হবে কারা এই ভণ্ড ভাববাদী। এই ভণ্ড ভাববাদীরা কি তারা, যারা গির্জায় আসে কিন্তু অন্য কোনো ধর্মের কথা বলে এবং অন্য কোনো ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ থেকে শিক্ষা দিতে শুরু করে? না। ভণ্ড ভাববাদী তারাই, " যাহারা মেষের বেশে আইসে।" মেষের বেশ ধারণ করা মানে হলো যীশু খ্রীষ্টের একজন সেবক এবং খ্রীষ্টের মেষ হওয়ার ভান করা। তারা মেষের বেশে আসে। তাদের দেখতে মেষের মতোই মনে হয়। তারা হাতে বাইবেল নিয়ে আসে, কিন্তু তারা সেই পথকে প্রশস্ত করে তোলে। তারা শাস্ত্রের আদেশগুলোকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করে যেন সেগুলোর গুরুত্ব কমে যায়; তারা বলে, "এই আদেশের প্রয়োজন নেই," অথবা "এর অর্থ ঠিক এমনটা নয়..." এরা শাস্ত্রের অনেক বিষয়কেই ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। ফিলিপীয় ৪:৪ পদের মতো-যেখানে বলা হয়েছে "প্রভুতে সর্বদা আনন্দ কর"-তারা বলে, "এর অর্থ ২৪ ঘণ্টা আনন্দ করা নয়। এর অর্থ হলো সাধারণভাবে বা অধিকাংশ সময় আনন্দ করা।" ফিলিপীয় ৪:৬ পদে যখন বলা হয় "কোনো বিষয়ে ভাবিত হইও না," তখন তারা বলে, "এর অর্থ আক্ষরিক অর্থে 'কোনো বিষয়েই নয়'-এমনটা নয়। এর অর্থ হলো সাধারণভাবে বলতে গেলে, "তোমার উদ্বেগ এড়িয়ে চলা উচিত"। ১ থিষলনীকীয় ৫:১৮ পদে যখন বলা হয় যে আমাদের "সর্ব্ববিষয়ে ধন্যবাদ কর, কারণ খ্রীষ্ট যীশুতে ইহাই তোমাদের উদ্দেশে ঈশ্বরের ইচ্ছা," তখন তারা বলে, "এর অর্থ আসলে প্রতিটি ছোটখাটো বিষয় নয়।"

শেষ দিনে যখন আপনি যীশু খ্রীষ্টের সামনে দাঁড়াবেন, তখন বুঝতে পারবেন যে ঈশ্বর যা বলেছিলেন, তা আক্ষরিক অর্থেই বলেছিলেন; খ্রীষ্টও যা বলেছিলেন, ঠিক তা-ই বুঝিয়েছিলেন। বাইবেলের এই কথাগুলো যদি আপনি বিশ্বাস না করেন, তবে সততার খাতিরেই বাইবেল থেকে সেই অংশগুলো কেটে বাদ দেওয়া কিংবা সেই পৃষ্ঠাগুলো ছিঁড়ে ফেলা উচিত।

বাইবেলকে ঈশ্বরের বাণী বলে স্বীকার করার পরেও যদি আপনি তা মেনে না চলেন, তবে আপনি অসৎ ও ভণ্ড। ঈশ্বর এই ভণ্ডামির বিচার করবেন। ঈশ্বর সৎ মানুষকে প্রেম করেন। আমার বিশ্বাস, ঈশ্বর অনেক নাস্তিককেই ভণ্ড খ্রীষ্টানদের চেয়ে বেশি প্রেম করেন, কারণ তারা সৎ। তারা বিশ্বাস করেন না যে ঈশ্বর আছেন; তারা এমন আচরণই করেন যেন ঈশ্বরের কোনো অস্তিত্ব নেই। জাগতিক কোনো ব্যবসায়ী হয়তো বলেন যে অর্থই ঈশ্বর-অর্থ ছাড়া আর কোনো ঈশ্বর নেই; তিনি অর্থেরই উপাসনা করেন এবং এ ক্ষেত্রে তিনি সৎ। কিন্তু যেসব খ্রীষ্টান যীশু খ্রীষ্টকে সত্য ঈশ্বর এবং বাইবেলকে ঈশ্বরের বাণী বলে স্বীকার করেন, তারা যদি ওই জাগতিক মানুষদের মতোই জীবনযাপন করেন, তবে তারাই হলেন ভণ্ড। মনে রাখবেন, খ্রীষ্ট যখন পৃথিবীতে ছিলেন, তখন তিনি অন্য সবার চেয়ে ভণ্ডদেরই বেশি ধিক্কার দিয়েছিলেন। ব্যভিচারিণী নারী পরিত্রাণ পেয়েছিলেন, ক্রুশবিদ্ধ চোর পরিত্রাণ পেয়েছিল, এমনকি খুনিও পরিত্রাণ পেয়েছিল; কিন্তু ভণ্ডরা নরকে গিয়েছিল।