ববি ম্যাকডোনাল্ড (Bobby McDonald) (প্রাচীন, এনসিসিএফ চার্চ, স্যান হোসে, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র)
"তোমরা ভাববাণী বলিবার জন্য উদ্যোগী হও..." (১ করিন্থীয় ১৪:৩৯)
১. ভাববাণীর সংজ্ঞা: "ভাববাণী" হলো মানুষের উদ্দেশ্যে এমন কথা বলা যা তাদের "আত্মিক উন্নতি, আশ্বাস ও সান্ত্বনা" জোগায়-বা অন্য কথায়, যা তাদের "উৎসাহ, শক্তি ও স্বস্তি" দেয় (১ করিন্থীয় ১৪:৩ - NLT)। ইব্রীয় ৩:১৩ পদে আমাদের বলা হয়েছে যেন আমরা একে অপরকে উৎসাহিত করি-অর্থাৎ প্রেমের মাধ্যমে তাদের মনোবল বৃদ্ধি করি। সুতরাং, ভাববাণী প্রচারের ক্ষেত্রে আমাদের মূল মনোযোগ থাকা উচিত উৎসাহ প্রদানের ওপর-যাতে আমরা হতাশ বা নিরুৎসাহিত মানুষদের মনোবল বাড়াতে পারি এবং পাপের কারণে তাদের হৃদয়কে কঠোর হয়ে ওঠা থেকে রক্ষা করতে পারি। আমরা যদি সঠিকভাবে এই কাজটি করি, তবে প্রভু আমাদের এমন কথা বলার সামর্থ্যও দিতে পারেন যা তাদের চিন্তাধারাকে নাড়া দেবে, সঠিক পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করবে এবং পাপের বিষয়ে তাদের অন্তরে অনুশোচনা জাগিয়ে তুলবে। 'বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলার' বরের চেয়ে ভাববাণী প্রচারের বর অধিক শ্রেয়; কারণ ভাববাণী মণ্ডলীর মানুষদের আত্মিক উন্নতি ঘটায়, অথচ 'বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলা' কেবল সেই ব্যক্তিরই আত্মিক উন্নতি ঘটায় যিনি কথা বলছেন (১ করিন্থীয় ১৪:৪)।
২. ভাববাণী বলার বিষয়টি সবার জন্যই প্রযোজ্য। মণ্ডলীর প্রত্যেকেরই ভাববাণী বলার বরদান লাভের চেষ্টা করা উচিত (১ করিন্থীয় ১৪:৩১ অনুসারে)। এটি এমন একটি বরদান যা কেবল ভাইয়েরাই নয়, বরং বোনেরাও লাভ করতে পারেন। ভাববাণী বলার সময় বোনদের অবশ্যই মাথা ঢেকে রাখতে হয়। এর কারণ হলো: ১ করিন্থীয় ১১:৩-১৫ পদে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, নারীর মস্তক হলো পুরুষ। আর যখন কোনো নারী তাঁর মাথা ঢেকে রাখেন, তখন তিনি নীরবে এই সাক্ষ্যই দেন যে, মণ্ডলীর মধ্যে পুরুষের মহিমা আবৃত থাকা প্রয়োজন-যাতে কেবল ঈশ্বরের মহিমাই প্রকাশিত হয়।
৩. বিষয়টি যেন ব্যক্তিগত হয়, তা নিশ্চিত করুন। কোনো বার্তা প্রচারের জন্য প্রস্তুত করার সময় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন তা কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার ওপর ভিত্তি করে না হয়ে আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর গড়ে ওঠে। প্রভু যীশু কেবল সেই বিষয়গুলোই বলতেন যা তিনি নিজে আগে পালন বা অনুশীলন করেছেন (প্রেরিত ১:১ পদে বলা হয়েছে: "যীশু প্রথমে কাজ করেছিলেন এবং তারপর শিক্ষা দিয়েছিলেন")। আমরা যেন কখনোই এমন কোনো তত্ত্ব প্রচার না করি যা আমরা নিজেরা অনুশীলন করিনি! যদি আমাদের নতুন কিছু বলার না থাকে, তবে আগে বলা কোনো বিষয় পুনরায় বলা ভালো-কিন্তু এমন কিছু বলা উচিত নয় যা আমরা নিজের জীবনে কখনোই পালন করিনি। খ্রীষ্টের বাধ্যতার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করলেই কেবল তাঁর কর্তৃত্ব আমাদের সহায়তা করবে। তাই, ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়ন করার সময় আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত-সবার আগে নিজের জীবনে তা পালন করা। তবেই আমরা সেই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে পারব যা আমরা নিজের জীবনে অনুশীলন ও অনুভব করেছি।
৪. নম্র মনোভাব পোষণ করুন। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে কোনো কিছু প্রকাশ করা বা মানুষকে সরাসরি উপদেশ দেওয়া-এসব আমাদের কখনোই করা উচিত নয়। অন্যদের এমন ধারণা দেওয়াও ঠিক নয় যে, আমরা জীবনের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলেছি! বরং, আমাদের বিশ্বাসের মাত্রা অনুযায়ীই কেবল ভাববাণী প্রচার করা উচিত (রোমীয় ১২:৬)। আর সর্বদা নম্র হৃদয়ে কথা বলে একমাত্র প্রভু যীশুকে মহিমান্বিত করতে হবে। যখন একমাত্র প্রভু যীশুকে তুলে ধরা হয়, তখন তিনিই মানুষকে তাঁর নিজের দিকে আকর্ষণ করেন (যোহন ১২:৩২)। তাই, প্রভুর বাক্য প্রচারের সময় তিনি যেন সর্বদা আমাদের নম্র হৃদয় বজায় রাখতে সাহায্য করেন, সে বিষয়ে আমাদের প্রচুর প্রার্থনা করা প্রয়োজন।
৫. দৈহিক সামর্থ্যের ওপর কোনো আস্থা রাখবেন না। "আমরাই ত ছিন্নত্বক্ লোক, আমরা যাহারা ঈশ্বরের আত্মাতে আরাধনা করি, এবং খ্রীষ্ট যীশুতে শ্লাঘা করি, মাংসে প্রত্যয় করি না" (ফিলিপীয় ৩:৩)। যদি প্রকাশ্যে কথা বলার মতো সাহস আমাদের না-ও থাকে, তবুও আমাদের পিছিয়ে আসা উচিত নয়; বরং শক্তির জন্য প্রভুর কাছে প্রার্থনা করা উচিত-তখন তিনিই আমাদের শক্তিশালী করবেন। আর যদি প্রকাশ্যে ভালো কথা বলার স্বাভাবিক দক্ষতা আমাদের থাকে, তবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন আমরা কেবল সেই দক্ষতার ওপরই নির্ভর না করি; বরং আমাদের শক্তিশালী করার জন্য প্রার্থনার মাধ্যমে প্রভুর ওপর আরও বেশি করে নির্ভর করি। ভাববাণী প্রচারের ক্ষেত্রে বিশ্বাস এবং প্রভুর ওপর নির্ভরতা অপরিহার্য।
৬. প্রচুর প্রার্থনা করুন। ঠিক কী বলা উচিত আর কী বলা উচিত নয়-সে বিষয়ে জ্ঞানের জন্য আমাদের ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে হবে (যাকোব ১:৫)। কথা বলার সময় সঠিক মনোভাব ও সঠিক উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলার সামর্থ্য পেতে আমাদের পবিত্র আত্মার শক্তির জন্য প্রার্থনা করতে হবে (লূক ১১:১৩)। আর কথা বলা শেষ করার পরেও প্রার্থনা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আমাদের প্রার্থনা করতে হবে যেন বপন করা বীজটি ভালো মাটিতে পড়ে এবং ফল উৎপন্ন করে; এবং আরও প্রার্থনা করতে হবে যেন-অন্যরা আমাদের কথা বা কাজকে প্রশংসা করলে আমরা অহংকারে না ভুগি, আবার কেউ প্রশংসা না করলে আমরা যেন হতাশ না হয়ে পড়ি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-প্রভু আমাদের দিয়ে যা বলাতে চেয়েছিলেন আমরা কি ঠিক তাই বলেছি এবং তা কি নম্রতার সাথে বলেছি? যদি আমরা তা-ই করে থাকি, তবে ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশ পেয়েছে-আর সেটাই হলো আসল কথা।
৭. প্রস্তুতির পেছনে সময় দিন। কথা বলা যদি আমাদের জন্য কঠিন মনে হয়, তবে আমরা কী বলব তা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেওয়া উচিত; পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সীমা ও মূল বিষয়ের ওপর অটল থাকা প্রয়োজন। আমরা যা বলতে চাই তা যদি লিখে রাখি, তবে মূল বিষয় থেকে সরে না গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কথা বলা সহজ হবে। তবে এর জন্য আগে থেকেই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। বাইবেল বলে, মানুষ যা বোনে, তাই কাটে (গালাতীয় ৬:৭)। হিতোপদেশ ১৩:৪ পদে বলা হয়েছে যে, পরিশ্রমীদের আকাঙ্ক্ষা সফল হয়। ঈশ্বর কঠোর পরিশ্রমের প্রতিদান দেন। ১ করিন্থীয় ১৪:৪০ পদে আমাদের বলা হয়েছে যে, "সকলই শিষ্ট ও সুনিয়মিতরূপে করা হউক"। তাই, সবসময় স্পষ্টভাবে এবং সুশৃঙ্খলভাবে কথা বলার চেষ্টা করুন। ঈশ্বরের বাক্য আমাদের এমনভাবে তুলে ধরা উচিত যা মানুষ সহজে গ্রহণ করতে পারে-ঠিক যেমন একজন দক্ষ রাঁধুনি এমন খাবার প্রস্তুত করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন যা সহজে হজম করা যায়। সবসময় নতুন কিছু বলার চেষ্টা না করে প্রয়োজনে কোনো কোনো বিষয় পুনরায় বলতেও আমাদের প্রস্তুত থাকা উচিত। প্রভু আমাদের হৃদয়ে যে বার্তা দিয়েছেন, তা হয়তো শুনতে খুব একটা রোমাঞ্চকর মনে নাও হতে পারে। কিন্তু আমরা যদি নিশ্চিত থাকি যে ঈশ্বর যা প্রচার করতে চেয়েছেন আমরা তা-ই (আমাদের সাধ্যমতো) তুলে ধরছি, তবে আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে প্রভু তাতে আশীর্বাদ করবেন।
৮. বিষয়টিকে সহজ রাখুন। প্রভু যীশু সর্বদা সহজভাবে কথা বলতেন। তাঁর শিক্ষায় বাস্তবতার ছোঁয়া থাকত এবং তাঁর কথাগুলো সবসময়ই সহজে বোঝা যেত। মানুষ যখন চটকদার শব্দ বা বাগ্মিতার আশ্রয় নেয়, তখন অনেক সময় মূল সত্যটি হারিয়ে যায়। আমাদের কথাবার্তা এমন হওয়া উচিত, যাতে এমনকি একটি শিশুও তা বুঝতে পারে এবং আমাদের কথা থেকে কিছু শিক্ষা লাভ করতে পারে।
৯. কখন থামতে হবে তা জানুন। প্রভু যীশু কখনোই তাঁর বার্তা বা বক্তব্যকে অহেতুক দীর্ঘ করেননি। 'পর্বতে দত্ত উপদেশ' (Sermon on the Mount)-এর স্থায়িত্বকাল ছিল মাত্র ২০ মিনিটের মতো। ঈশ্বর খুব অল্প সময়ের মধ্যেও শক্তিশালী বার্তা প্রদান করতে পারেন! অতিরিক্ত দীর্ঘ সময় ধরে কথা বললে অনেকের পক্ষেই তা আত্মস্থ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে শ্রোতাদের মনোযোগও হারিয়ে যেতে পারে। পরিমাণের চেয়ে গুণগত মানই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। উপদেশক ৬:১১ পদে বলা হয়েছে, " যাহাতে অসারতে বাড়ে, এমন অনেক কথা আছে, তাহাতে মানুষের কি উৎকর্ষ ?" খুব কম মানুষেরই দীর্ঘ সময় ধরে শ্রোতাদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা থাকে। দীর্ঘ বক্তৃতা দিয়ে শ্রোতাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলা এবং তাদের বারবার ঘড়ির দিকে তাকাতে বাধ্য করার চেয়ে-প্রভু আমাদের হৃদয়ে যা দিয়েছেন তা সংক্ষেপে প্রকাশ করাই শ্রেয় (লূক ১৪:৮-১১)।
১০. ভীত বা ভীরু হবেন না, বরং সাহসী হোন। "ঈশ্বর আমাদিগকে ভীরুতার আত্মা দেন নাই, কিন্তু শক্তির, প্রেমের ও সুবুদ্ধির আত্মা দিয়াছেন" (২ তীমথিয় ১:৭)। খ্রীষ্ট কে এবং তিনি আমাদের জীবনে কী করেছেন-তা জানার কারণেই আমরা সাহসী হতে পারি। ঈশ্বর এমনকি আমাদের দুর্বলতা বা অসম্পূর্ণতাগুলোকেও কাজে লাগাতে পারেন এবং সেগুলোর মধ্য দিয়ে অন্যদের আশীর্বাদ করতে পারেন। আমরা যদি আমাদের সাধ্যমতো সামান্য কাজটুকুও করি, তবে ঈশ্বর এমন কিছু করবেন যা আমাদের সাধ্যের বাইরে, এবং আমাদের মুখের কথাকে আশীর্বাদ করবেন। আমরা যদি কেবল বিশ্বস্ততার সাথে পাত্রগুলো জল দিয়ে পূর্ণ করি (যেমন কানার বিবাহভোজের ঘটনায় হয়েছিল), তবে প্রভু সেই জলকে দ্রাক্ষারসে পরিণত করবেন (যোহন ২:১-১১)। এটি করার বিষয়ে আমাদের ঈশ্বরের ওপর আস্থা রাখা উচিত। আমরা যদি ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করি, তবে তিনি আমাদের দুর্বলতার মধ্য দিয়েই অনেককে আশীর্বাদ করতে পারেন।
১১. সর্বদা হৃদয় থেকে ভাববাণী বা ঈশ্বরের বার্তা প্রচার করুন। আমাদের কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক বা তাত্ত্বিক জ্ঞান থেকে শিক্ষা দেওয়া উচিত নয়। বাইবেল বলে যে, সকলেই ভাববাণী বলতে পারে (১ করিন্থীয় ১৪:৩১), কিন্তু সকলেই শিক্ষক হতে পারে না (১ করিন্থীয় ১২:২৯)। শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কিন্তু খুব কম মানুষকেই শিক্ষক হওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়; আর ঈশ্বর যদি আমাদের সেই আহ্বান না দিয়ে থাকেন, তবে আমাদের কখনোই শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। ১ করিন্থীয় ৮:১ পদে বলা হয়েছে যে, "জ্ঞান মানুষকে গর্ব্বিত করে তুলতে পারে"। এটি আমাদের অন্যদের তুচ্ছজ্ঞান করতে প্ররোচিত করতে পারে। আমরা কী বলছি কেবল সেটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আমরা কীভাবে (এবং কী উদ্দেশ্যে) তা বলছি-সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা সর্বদা অন্যদের মঙ্গলের কথা মাথায় না রাখি, তবে আমরা কেবল জ্ঞান, মতবাদ এবং এমন সব বিষয়ের ওপরই মনোযোগ দিতে থাকব যা কেবল মানুষের মনকে উদ্দীপিত করে বা তাদের বিনোদন দেয়!! অথচ আমাদের আহ্বান হলো মানুষকে উন্নত করা এবং তাদের আধ্যাত্মিক জীবনে আরও এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত ও চ্যালেঞ্জ জানানো।
১২. অন্যদের প্রতি প্রেমের বশবর্তী হয়ে আগ্রহের সাথে ভাববাণী বলার বরদান লাভের চেষ্টা করুন (১ করিন্থীয় ১৪:১)। আমাদের প্রতিটি কাজ অবশ্যই প্রেম থেকে উৎসারিত হতে হবে। প্রেম বিহীন যেকোনো শ্রেষ্ঠ কাজও মূল্যহীন। তাই, মণ্ডলীর প্রতি প্রেম এবং অন্যদের গড়ে তোলার ও সাহায্য করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই আমাদের ভাববাণী বলার বরদান লাভের চেষ্টা করা উচিত। সর্বদা এটাই হওয়া উচিত আমাদের উদ্দেশ্য। যেমনটি ভাই জ্যাক পুনেন বলেছেন, "ঈশ্বরের একজন দাসের হৃদয়ে সর্বদা দুটি বিষয় থাকা আবশ্যক-ঈশ্বরের বাক্য এবং ঈশ্বরের লোক"।
১৩. ব্যক্তিগত কথাবার্তার মধ্যেও ভাববাণী বলুন। ভাববাণী কেবল মণ্ডলীর সভায় প্রকাশ্যে কথা বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; আমরা অন্যদের সাথে সাধারণ কথোপকথনের সময়ও ভাববাণী বলতে পারি। এটি হতে পারে ফোনে বা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে কাউকে উৎসাহিত করা, কিংবা কারও বাড়িতে বসে আলাপচারিতার সময় কোনো কথা বলা। কাউকে উৎসাহিত করাও এক ধরণের ভাববাণী, আর আমাদের উচিত প্রতিদিন মানুষকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করা (ইব্রীয় ৩:১৩)। এটি আমাদের প্রিয়জনদের পাপের কারণে হৃদয় কঠিন হয়ে পড়া থেকে রক্ষা করবে। আমরা যদি অন্যদের আশীর্বাদ করতে চাই, তবে এভাবেই তা করতে পারি। সুযোগের সন্ধানে আমাদের সর্বদা সজাগ থাকতে হবে। প্রভু যদি আমাদের এমন কোনো কথা বলে থাকেন যা আমাদের আশীর্বাদ করেছে, তবে আসুন আমরা সেই কথা দিয়ে অন্যকেও আশীর্বাদ করি। ভাববাণী বলা মানে হলো-"মানুষ আপন মুখের উত্তরে আনন্দ পায়; আর যথাকালে কথিত বাক্য কেমন উত্তম"। আর ঠিক এই কাজটিই অন্যদের জীবনে সবচেয়ে বেশি আশীর্বাদ বয়ে আনে (হিতোপদেশ ১৫:২৩)।
তাই আসুন,ঈশ্বরের মহিমার জন্য আমরা যেন আন্তরিকভাবে ভাববাণী বলার চেষ্টা করি!!