ঈশ্বর যখন ইস্রায়েলকে মিশরীয় দাসত্ব থেকে মুক্ত করে মরুপ্রান্তরের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাদের আদেশ দিলেন, "তাহারা আমার নিমিত্ত এক ধর্ম্মাধাম নির্মাণ করুক, তাহাতে আমি তাহাদের মধ্যে বাস করিব" (যাত্রাপুস্তক ২৫:৮)। এই (ধর্ম্মাধাম) পবিত্র স্থানটি সমাগম-তাঁবু নামে পরিচিত ছিল এবং ইস্রায়েলীয়রা কনান দেশে প্রবেশ করার পর এর পরিবর্তে মন্দির নির্মিত হয়।
এই পদ থেকে আমরা দেখতে পাই যে, ঈশ্বর তাঁর প্রজাদের মাঝে বাস করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। খ্রীষ্টের আগমনের পর থেকে, ঈশ্বর আর কোনো পার্থিব ভবনে বাস করেন না। তিনি এখন মানুষের হৃদয়ে ও গৃহে বাস করতে চান। প্রভু আজও বলেন, 'আমার জন্য একটি ধর্ম্মাধাম (পবিত্র স্থান) নির্মাণ কর, যেন আমি তোমাদের সঙ্গে বাস করতে পারি।' এই উদ্দেশ্যেই ঈশ্বর স্বামী-স্ত্রীকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেন। ঈশ্বরের সঙ্গে বাস করার জন্য তাদের অবশ্যই নিজেদের গৃহকে একটি পবিত্র স্থান হিসেবে নির্মাণ করতে হবে।
ঈশ্বরের মহিমার জন্য গৃহ নির্মাণ
সাধারণত, যখন লোকেরা বিবাহ করে, তখন তারা নিজেদের জন্য একটি গৃহ নির্মাণের কথা ভাবে। অ-খ্রীষ্টান প্রত্যেক দম্পতির লক্ষ্য এটাই থাকে। কিন্তু বিশ্বাসী হিসেবে, যদি আমরা প্রভু যীশু খ্রীষ্ট এবং তাঁর বাক্যকে সম্মান করতে চাই, তবে আমাদের নিজেদের জন্য গৃহ নির্মাণ করা উচিত নয়। আমাদের ঈশ্বরের বসবাসের জন্য একটি পবিত্র স্থান নির্মাণ করা উচিত। একটি সত্যিকারের খ্রীষ্টীয় গৃহ এবং একটি অ-খ্রীষ্টান গৃহের মধ্যে এটাই মৌলিক পার্থক্য। অনেক বিশ্বাসীর লক্ষ্য এটা না হওয়ার কারণেই আমরা তাদের গৃহে এত দুঃখকষ্ট এবং অধার্মিকতা দেখতে পাই। তারা তাদের গৃহ নিজেদের জন্য নির্মাণ করেছে, ঈশ্বরের জন্য নয়।
বিয়ে করার সময় মানুষ তাদের সুখী জীবন নিয়ে অনেক আশা পোষণ করে। কিন্তু ছয় মাস পরেই, যখন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়, তখন পরিস্থিতিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায়। তারা অনবরত ঝগড়া করে এবং একে অপরের উপর চিৎকার করে। দশম বিবাহবার্ষিকীতে পৌঁছানোর আগেই অনেক দম্পতি একে অপরের উপর বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এমনটা কেন হয়? কারণ তারা স্বার্থপরের মতো নিজেদের জন্য একটি সংসার তৈরি করছিল। কিন্তু ঈশ্বরের বাক্য আমাদের শেখায় যে, আমরা কেবল তখনই একটি সুখী দাম্পত্য জীবন পেতে পারি, যদি আমরা ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশ করতে এবং তাঁর জন্য আমাদের সংসার গড়তে সচেষ্ট হই।
বিবাহিত দম্পতিদের জন্য ঈশ্বরের উদ্দেশ্য ঠিক তেমনই, যেমনটা পুরাতন নিয়মে ইস্রায়েলীয়দের জন্য তাঁর উদ্দেশ্য ছিল। তিনি মানুষকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেন, যেন তারা তাঁর মহিমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করতে পারে। যাত্রাপুস্তকে, ঈশ্বর ইস্রায়েলীয়দের সমাগম-তাঁবুর জন্য সুনির্দিষ্ট নির্মাণ পরিকল্পনা দিয়েছিলেন, এবং তাঁর আদেশ অনুযায়ীই তাদের তা নির্মাণ করতে হয়েছিল। ইস্রায়েলীয়রা ঈশ্বরের পরিকল্পনা হুবহু অনুসরণ করার মতো যথেষ্ট নম্র ছিল। ফলস্বরূপ, প্রভুর মহিমা সেই সমাগম-তাঁবুর উপর অধিষ্ঠিত হয়েছিল (যাত্রাপুস্তক ৪০:৩৪)। আপনিও যদি চান যে ঈশ্বরের মহিমা আপনার গৃহে বাস করুক, তবে আপনাকেও ঈশ্বরের পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনার গৃহ নির্মাণ করতে হবে। শাস্ত্রে প্রভু যেভাবে আদেশ করেছেন, ঠিক সেভাবেই আপনার বিবাহকে গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। তাহলে ঈশ্বরের মহিমা আপনার গৃহেও অধিষ্ঠিত হবে।
ঈশ্বরেরআদেশ অনুসারে গৃহ নির্মাণ
আমরা অনেক খ্রীষ্টান পরিবারে তিক্ততা, ঈর্ষা, অসন্তোষ এবং অর্থলোভ দেখতে পাই। এটি একটি অ-খ্রীষ্টান পরিবারের থেকে খুব বেশি আলাদা নয়। কারণটি স্পষ্ট: ঈশ্বরের মহিমা সেই গৃহকে পূর্ণ করতে পারে না, কারণ দম্পতিটি ঈশ্বরের বাক্য অনুসারে তা নির্মাণ করার চেষ্টা করেনি। পরিবর্তে, তারা তাদের নিজেদের যুক্তি অনুসারে তাদের গৃহ নির্মাণ করেছে।
১ করিন্থীয় ১১:৩ পদে আমরা পরিবারের জন্য ঈশ্বরের বিধান স্পষ্টভাবে দেখতে পাই: "প্রত্যেক পুরুষের মস্তকস্বরূপ খ্রীষ্ট এবং স্ত্রীর মস্তকস্বরূপ পুরুষ।" আমরা প্রায়শই খ্রীষ্টীয় পরিবারগুলিতে একটি কাঠের ফলকে এই কথাগুলি দেখতে পাই - ''খ্রীষ্ট এই পরিবারের মস্তক।'' কিন্তু বাস্তবে, খ্রীষ্ট পরিবারের মস্তক নন। ঈশ্বর যখন আদম ও হবাকে সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি আদমকে হবার মস্তক হিসেবে দিলেন। স্বয়ং ঈশ্বরই আদমের মস্তক ছিলেন। ঈশ্বর তাদের একত্রিত করার পর, শাস্ত্রে আমরা ঠিক এর পরেই যা পড়ি তা হলো, শয়তান দৃশ্যপটে প্রবেশ করল। এটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, আজও, ঈশ্বর যখনই কোনো পুরুষ ও নারীকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেন, তখনই শয়তান আসবে। তাই, আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। শয়তান যেন আমাদের ঘরে প্রবেশ করতে না পারে।
শয়তান কীভাবে সেই প্রথম বাড়িতে প্রবেশ করল? এর কারণ হলো, আদম ও হবা ঈশ্বরের আদেশ মানেননি। যখন শয়তান হবার কাছে এসে ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করার পরামর্শ দিল, তখন তার বলা উচিত ছিল, "শোনো শয়তান, আমি নিজে থেকে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। ঈশ্বর আমাকে একজন মস্তক দিয়েছেন। আমাকে প্রথমে তাঁর সাথে পরামর্শ করতে দাও, তারপর আমি তোমাকে উত্তর দেব।" যদি তিনি তা করতেন, তাহলে গল্পটা কতই না অন্যরকম হতো! কিন্তু তিনি শয়তানের সাথে আলোচনা চালিয়ে গেলেন এবং অবশেষে নিজের মস্তকের সাথে পরামর্শ না করেই একটি সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি ঈশ্বরের আইন লঙ্ঘন করলেন, তারপর তার স্বামীকেও ঈশ্বরের অবাধ্য হতে বললেন। আদমের উচিত ছিল তাকে বলা, "ঈশ্বরই আমার মস্তক।" "আমি তাঁর সাথে পরামর্শ করি।" কিন্তু তিনিও ঈশ্বরের আদেশ পালন করেননি। যদি তারা তাদের গৃহের জন্য ঈশ্বরের আদেশ মেনে চলতেন, তবে আজকের পৃথিবীতে যে সমস্ত পাপ, দুঃখকষ্ট এবং বিশৃঙ্খলা রয়েছে, তার কোনো অস্তিত্বই থাকত না। এভাবেই শয়তান আজও অনেক বাড়িতে প্রবেশ করে এবং সেগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। গীতসংহিতা ১২৭:১ পদে বলা হয়েছে, "যদি সদাপ্রভু গৃহ নির্মাণ না করেন, তবে নির্মাতারা বৃথাই পরিশ্রম করে।"
প্রভু আমাদের বাড়ি কেবল তখনই নির্মাণ করতে পারেন, যখন আমরা তাঁর বাক্য অক্ষরে অক্ষরে পালন করি।