কোনো দম্পতি যখন একসঙ্গে একটি ঘর গড়তে চায়, তখন তারা তা একটি একটি করে ইট দিয়ে গড়ে তোলে। এই কথাটি শারীরিক এবং আধ্যাত্মিক, উভয় ক্ষেত্রেই সত্য। আমরা যে আধ্যাত্মিক 'ইটগুলো' ব্যবহার করি, সেগুলো কী?
পরস্পরের প্রতি তাদের চিন্তাভাবনা এবং একে অপরকে বলা কথাগুলোকে আমরা সেই বাড়িটি তৈরিতে ব্যবহৃত ইটের সাথে তুলনা করতে পারি। আপনি আপনার নিজের বাড়ি তৈরিতে কী ধরনের ইট ব্যবহার করছেন, তা কেবল আপনিই নির্ধারণ করতে পারেন। অনেক দম্পতি যে মানের ইট ব্যবহার করে, তাতে তাদের বাড়িঘর ধসে পড়াটা আশ্চর্যের কিছু নয়।
যখন একটি বাস্তব বাড়ি তৈরির কথা আসে, আমরা একটি দীর্ঘস্থায়ী কাঠামো চাই বলে পরীক্ষিত ও উন্নত মানের ইট ব্যবহারে খুব সতর্ক থাকি। কিন্তু বাস্তব বাড়ি চিরস্থায়ী নয়। একদিন তা ধ্বংস হয়ে যাবে। আসল বাড়ি যার উপর আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত, তা হলো আমাদের জীবনসঙ্গীর সাথে সেই সম্পর্ক যা আমরা অনন্তকালের জন্য গড়ে তুলি। সুতরাং, আপনাদের সম্পর্কের চিন্তাভাবনা ও কথাবার্তার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। একে অপরের প্রতি সেই চিন্তাভাবনা ও কথাবার্তা যেন পবিত্রতা ও মঙ্গলের হয়।
ইব্রীয় ১২:১৫ পদে তিক্ততার মূলের বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে। এটি আমাদের জীবনসঙ্গীর প্রতি আমাদের হৃদয়ে তৈরি হতে পারে। বাইবেল কলসীয় ৩:১৯ পদে স্বামীদেরকে তাদের স্ত্রীদের প্রতি তিক্ত না হওয়ার আদেশও দেয়। তিক্ততার মতো হৃদয়ের চিন্তাভাবনা ও মনোভাবকে অবশ্যই মেরে ফেলতে হবে। আমাদের চিন্তাজগতে রক্তের চিহ্ন থাকা উচিত - একটি ক্রুশ, যার উপর আমরা মৃত্যুবরণ করি। আমাকে অপ্রেমিক চিন্তা, স্বার্থপর চিন্তা এবং বিভেদ সৃষ্টিকারী চিন্তাকে মেরে ফেলতে হবে। কখনো ভুলবেন না যে শয়তান সর্বদা কাছাকাছিই থাকে, এই আশায় যে সে আপনার হাতে তার পাথর ও ইট তুলে দেয় সেইগুলি দিয়ে আপনি আপনার ঘর তৈরি করবেন। আমাদের মধ্যে যারা বিবাহিত, তারা জানি যে সঙ্গীর প্রতি কঠোর, স্বার্থপর, তিক্ত ও সন্দেহপ্রবণ চিন্তাভাবনার প্রলোভন আসে। শয়তান স্বার্থপরতার ইট নিয়ে আসে যাতে আমরা কেবল নিজেদের স্বার্থের কথা ভেবেই ঘর তৈরি করি। সে আপনার সঙ্গীর প্রতি সন্দেহের ইট নিয়ে আসে। সন্দেহকে জয় করুন এবং বিশ্বাস করতে শিখুন। সন্দেহপ্রবণ চিন্তাভাবনা হলো শয়তানের আনা সবচেয়ে নিকৃষ্ট ইট।
একইভাবে, আমাদের বলা কথাগুলোও সেই ইটের মতো, যা দিয়ে আমরা আমাদের ঘর তৈরি করি। যদি বিবাহিত দম্পতিদের বলা সমস্ত কথা টেপ করে বাজানো হতো (যা বিচারের দিনে অবশ্যই ঘটবে), আমি ভাবি, আমাদের মধ্যে কতজন তা শুনে আনন্দ পেতেন। নাকি আমরা পালিয়ে লুকিয়ে পড়তাম? কিছু দম্পতির জন্য এটা কতই না চমৎকার হবে, যারা একে অপরের সাথে সদয় ও ভালোবাসার কথা বলেছে। তাদের এই আত্মবিশ্বাসও থাকবে যে বিচার দিবসে তাদের কথোপকথন সমগ্র বিশ্ব শুনবে।
আমরা নিখুঁত নই, কিন্তু আমরা নিজেদেরকে নম্র করতে, ভালো কথা বলতে এবং শয়তান আমাদের জিহ্বায় যে মন্দ কথাগুলো বসিয়ে দেয়, সেগুলোকে দমন করতে শিখতে পারি। স্বামী-স্ত্রীরা একে অপরকে যে সমস্ত জঘন্য কথা বলে, সেগুলোর কথা ভাবুন ('তোমার বাবা অমুক ছিলেন' বা 'তোমার বোন অমুক ছিল' ইত্যাদি)। এটা দুঃখের বিষয় যে অনেকেই এই ধরনের ইট দিয়ে তাদের ঘরবাড়ি তৈরি করে। কিন্তু এমন শোচনীয় অবস্থার মাঝেও, ঈশ্বর তাঁর বাক্যে আমাদের যে আদর্শ দিয়েছেন, সেই অনুসারে আমাদের এমন একটি গৃহ নির্মাণ করতে হবে যা ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশ করে।
ইফিষীয় ৪:২৯ পদে লেখা আছে, "তোমাদের মুখ হইতে কোন প্রকার কদালাপ বাহির না হউক।" খারাপ কথা খারাপ ইটের সমান। আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে যদি এই সহজ নিয়মটি মেনে চলি: আমাদের সঙ্গীকে কেবল অনুগ্রহপূর্ণ কথাই বলি - তাহলে এক বছরের মধ্যেই আমাদের এমন একটি ঘর হবে, যা মানুষের বছরের পর বছর ধরে গড়া সমস্ত পচা ঘরবাড়ির চেয়ে শ্রেষ্ঠতর হবে। এটা অবশ্যই আমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি সম্ভাবনা। আপনার বাড়িতে অন্য কারো নামে কুৎসা রটানোর প্রলোভন আসবে। কিন্তু সেটা কেবলই একটি প্রলোভন। যদি কেউ আপনার বাড়িতে আসে এবং আপনি পরচর্চা শুরু করেন, তবে আপনি পচা ইট দিয়ে আপনার বাড়ি তৈরি করছেন। শয়তান আপনাকে পচা ইট দিয়েছে, এবং আপনি সানন্দে তা গ্রহণ করেছেন। তাকে আপনার বাড়ির সাথে এমনটা করতে দেবেন না। এতে কোনো সন্দেহ নেই-যদি আপনি ঈশ্বরের দেখানো পথ আন্তরিকভাবে অনুসরণ করার সংকল্প করেন, তবে আপনি একটি স্বর্গীয় গৃহ লাভ করবেন।
দ্বিতীয় বিবরণ ৩৩:১৬ পদে ঈশ্বরকে "যিনি ঝোপের মধ্যে বাস করতেন" বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি যাত্রাপুস্তক ৩ অধ্যায়ের সেই ঘটনার কথা বলছে, যেখানে ঈশ্বর জ্বলন্ত ঝোপ থেকে মোশির সঙ্গে কথা বলেছিলেন। বাইবেলে উল্লেখিত এটিই ঈশ্বরের প্রথম বাসস্থান। আপনি কি কল্পনা করতে পারেন যে, আগুনে জ্বলতে থাকা সেই ঝোপের মধ্যে কোনো জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকতে পারত? আগুন প্রতিটি জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দিত। সমস্ত জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার জন্য আমাদের ঘরে সেই আগুন-পবিত্র আত্মার আগুন-প্রয়োজন। আমি কোন জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়ার কথা বলছি? একে অপরের প্রতি আমাদের যে অধার্মিক চিন্তা, আমাদের বলা নিষ্ঠুর ও কদর্য কথা, অপ্রয়োজনীয় পরচর্চা ইত্যাদি। যখন আমরা পবিত্র আত্মায় পূর্ণ থাকি, যখন পবিত্র আত্মার আগুন আমাদের ঘরে থাকে, তখন আমাদের ঘর জীবাণুমুক্ত হয়ে যায়। আমাদের ঘর বাহ্যিকভাবে পরিপাটি না হলেও কিছু যায় আসে না, কিন্তু আমাদের কথাবার্তা ও চিন্তাভাবনা অবশ্যই পরিষ্কার হতে হবে।
ঈশ্বর কিসের প্রতি যত্নশীল এবং মানুষ কিসের প্রতি যত্নশীল, তার মধ্যে এটাই পার্থক্য। ফরীশীরা বাইরে থেকে পরিচ্ছন্ন, কিন্তু প্রভু যীশুর শিষ্যরা ভেতরটা পরিচ্ছন্ন রাখেন। তাদের চিন্তা ও কথা সরল, যাতে ঈশ্বর তাদের গৃহে বাস করতে পারেন। আমরা যদি এর অন্বেষণ করি, তবে আমাদের গৃহগুলো পুরাতন নিয়মের সেই সমাগম তাঁবুর মতো হবে, যেখানে ঈশ্বরের মহিমা অবতীর্ণ হয়েছিল। আমাদের যদি এমন অনেক গৃহ থাকত, তবে তা চমৎকার হতো। যিনি ঝোপের মধ্যে বাস করেন, সেই ঈশ্বর এমন একটি গৃহেও বাস করবেন যেখানে তাঁর মহিমা প্রকাশিত হতে পারে।