WFTW Body: 

আপনাকে অবশ্যই ধর্মীয়তা এবং আধ্যাত্মিকতার মধ্যে পার্থক্য করতে শিখতে হবে। ধর্মীয়তা হল অনেক খ্রীষ্টান কার্যকলাপে অংশগ্রহন করা। কিন্তু আধ্যাত্মিক হওয়ার অর্থ হল পবিত্র আত্মাকে সর্ব বিষয়ে আমাদের মনোভাবকে প্রভু যীশুর মত একই মনোভাবে পরিবর্তিত করার অনুমতি দেওয়া (ফিলিপীয় ২:৫, "খ্রীষ্ট যীশুতে যে ভাব ছিল তাহা তোমাদিগেতেও হউক..." )। আমরা আধ্যাত্মিকভাবে বেড়ে উঠছি বলে নিজেদেরকে কখনই প্রতারণা করা উচিত নয় যদি আমাদের মধ্যে নারী, অর্থ, মানুষ, পরিস্থিতি, পার্থিব সম্মান ইত্যাদির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না ঘটে। শুধু ধর্মীয় ক্রিয়াকলাপ আমাদেরকে ফরীশীদের মতো চুনকাম করা কবরে পরিণত করবে। আমাদের অবশ্যই পবিত্র আত্মার সাহায্যে মন্দ মনোভাব থেকে আমাদের নিজেদের পরিত্রাণের জন্য সর্ব বিষয়ে কার্য করতে হবে।

ধর্মীয় হওয়া এবং আধ্যাত্মিক হওয়ার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। পুরাতন নিয়মের অধীনে যারা ধার্মিকতার অনুসরণ করেছিল তারা ধর্মীয় ফরীশী হয়ে উঠেছিল। তারা ছিল প্রভু যীশুর সবচেয়ে বড় শত্রু। আজও ব্যবস্থার (পুরাতন নিয়মের) আত্মায় নতুন নিয়মের সত্যগুলিকে গ্রহণ করা সত্ত্বেও শুধু ধর্মীয় হওয়া সম্ভব। তাহলে আজও আমরা ঈশ্বরের সবচেয়ে বড় শত্রু হবো।

একজন ব্যক্তি, যিনি পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হওয়ার চেয়ে এবং ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার চেয়ে ঈশ্বরের বাক্যের আক্ষরিক অধ্যয়নে বেশি আগ্রহী হোন, তাঁর পক্ষে আধ্যাত্মিক খ্রীষ্টান না হয়ে অবশেষে একজন ধর্মীয় ফরীশী হিসাবে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পুরাতন নিয়মে তাদের প্রভুর আইনের উপর ধ্যান করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল (গীতসংহিতা ১:২)। কিন্তু নতুন নিয়মে আমাদেরকে প্রভু যীশুর মহিমার বিষয়ে ধ্যান করতে হবে যা আমরা পবিত্র বাক্যে দেখতে পাই (২ করিন্থীয় ৩:১৮)। অক্ষরমালা বধ করে। আত্মা জীবন দান করে।

ঈশ্বরের রাজ্য ধার্মিকতা, শান্তি ও পবিত্র আত্মাতে আনন্দ (রোমীয় ১৪:১৭)। ধর্মীয়তার মধ্যে মানবিক ধার্মিকতা থাকতে পারে, কিন্তু তাতে শান্তি ও আনন্দ থাকবে না। সেখানে অপরিস্ফুট বিরক্ত ভাব, বচসা, ভয় ও উদ্বেগ থাকবে। সত্যিকারের খ্রীষ্টীয় ধর্ম একটি বিশ্বাস যা শান্তির পরিপূর্ণতা নিয়ে আসে - ঈশ্বরের সাথে শান্তি (সমস্ত বিষয়ে একটি শুদ্ধ বিবেক), মানুষের সাথে শান্তি (আমাদের পক্ষে যতদূর সম্ভব), এবং আন্তরিক শান্তি (উদ্বেগ এবং উত্তেজনা থেকে মুক্ত)। এটি আনন্দের পরিপূর্ণতাও নিয়ে আসে - সমস্ত পরিস্থিতিতে উপচে পড়া ধন্যবাদ ও প্রশংসার জীবন। আমরা গান করি:

"তাঁর নিজের দুঃখের জন্য তার কোন অশ্রু ছিল না

কিন্তু আমার জন্য ঘামের ফোঁটার মতো রক্ত ঝরিয়েছেন।"

এভাবেই প্রভু যীশু জীবনযাপন করেছিলেন। তিনি একবারও নিজের জন্য দুঃখবোধ করেননি। এমনকি রক্তপাত এবং ক্রুশ বহন করার সময়, তিনি অন্যদের বলেছিলেন, "আমার জন্য কেঁদো না" (লুক ২৩:২৮)। তাঁর মধ্যে নিজের প্রতি কোন সমবেদনা ছিল না। তিনি অবিরত আনন্দ করতেন - এমনকি অন্যদের দ্বারা অপমানিত হওয়ার পরেও, কারণ তিনি তাঁর পিতার সম্মুখে জীবনযাপন করেছিলেন। আমাদেরও তাই হতে হবে - আমাদের নিজেদের দুঃখের জন্য কোন অশ্রুপাত না করা।

ধর্মীয়তার অনেক কার্যকলাপ থাকতে পারে। কিন্তু এটিতে আছে অহংকার এবং এটি অন্যদের অবজ্ঞা করে। যখন আমরা অন্যদের অবজ্ঞা করি, বা আমাদের ধার্মিকতার জন্য অহংকার করি, তখন আমরা ধার্মিক, তবে আধ্যাত্মিক নই। (পুরাতন নিয়মে নম্রতার বিষয়ে বেশি বলা হয়নি, কারণ এটি একটি নতুন নিয়মের গুণ)। আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, আমাদের সমস্ত বাইবেল-জ্ঞানের বৃদ্ধির সাথে সাথে, আমরা আধ্যাত্মিক হয়ে উঠছি, আরও বেশি ধর্মীয় নয়।

যারা আপনার ক্ষতি করেছে তাদের প্রত্যেককে ক্ষমা করুন, ঈশ্বর এবং মানুষের সাথে সবকিছু ঠিকঠাক করুন, আন্তরিকভাবে পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হওয়ার চেষ্টা করুন এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহে প্রতিদিন প্রভু যীশুর মৃত্যুর পথে চলতে নির্ধারণ করুন। তাহলে আপনি একজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তি হয়ে উঠবেন।