WFTW Body: 

প্রকাশিত বাক্য ১২:১০ পদে আমরা পড়ি যে, শয়তান দিনরাত অবিরামভাবে ঈশ্বরের কাছে সমস্ত বিশ্বাসীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। এটি একটি সার্বক্ষণিক কাজ, যা শয়তান করে চলছে। আর এই কাজে তার অনেক সহযোগী আছে - দুঃখের বিষয় হলো, অনেক বিশ্বাসীর মধ্যেও তারা রয়েছে। অসংখ্য বিশ্বাসী আছে যারা এই অভিযোগের কাজে শয়তানের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে।

এদন উদ্যানে আদম পাপ করার সাথে সাথেই শয়তান তার 'অভিযোগ করার স্বভাব' আদমের মধ্যে সঞ্চারিত করে। আর তাই, যখন ঈশ্বর আদমের কাছে এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে সে নিষিদ্ধ ফলটি খেয়েছে কি না, তখন আদম নিজের পাপ স্বীকার করার পরিবর্তে সর্বপ্রথম তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে বলল, "সে আমাকে ঐ বৃক্ষের ফল দিয়ে ছিল, তাই খেয়েছি"(আদিপুস্তক ৩:১২)।

শৈশব থেকেই আমরা সবাই অন্যের দোষ খুঁজে বের করতে এবং মানুষকে দোষারোপ করতে শিখেছি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে, দোষারোপ ও অভিযোগ করার এই মনোভাব আরও সূক্ষ্ম এবং বিদ্বেষপূর্ণভাবে প্রকাশ পায়। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এই অভিযোগের মনোভাব অনেক বিশ্বাসীর মধ্যেই দেখা যায় - এমনকি তাদের নতুন জন্মের বহু বছর পরেও!

২ করিন্থীয় ৫:১৭ পদে লেখা আছে, "কেহযদি খ্রীষ্টে থাকে,তবে নতুন সৃষ্টি হইল;পুরাতন বিষয়গুলি অতীত হইয়াছে, দেখ, সেগুলি নতুন হইয়া উঠিয়াছে।"

আমরা যখন নতুন জন্ম লাভ করি, তখন অন্যদের প্রতি আমাদের মনোভাব নতুন হয়ে যাওয়া উচিত - ঠিক সেই মনোভাব যা প্রভু যীশুর ছিল - যা আমাদের বিরুদ্ধে পাপকারীদের দোষারোপ করার পরিবর্তে তাদের জন্য মধ্যস্থতা করে। তবে, মনোভাবের এই রূপান্তর আমাদের মধ্যে কেবল তখনই ঘটবে যদি আমরা ঈশ্বরের সাথে সহযোগিতা করি। ফিলিপীয় ২:১২ পদ আমাদের নির্দেশ দেয় যেন আমরা আদমের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সমস্ত ভুল মনোভাব থেকে "আমাদের পরিত্রাণ সাধন করি"। যেহেতু বিশ্বাসীরা এই আজ্ঞাটিকে - "তাদের নিজেদের পরিত্রাণ সাধন করা" - গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে না, তাই তারা আদমের সন্তানদের মতো আচরণ করতে থাকে এবং অন্যদের দোষারোপ করে। ঈশ্বরের সন্তানদের এই মন্দ আচরণের মাধ্যমে, প্রভু এবং তাঁর মণ্ডলী উভয়েরই মানুষের কাছে খুব বদনাম হয়।

যোহন ৮:৪ পদে আমরা পড়ি, ফরীশীরা ব্যভিচারে ধরা পড়া এক দরিদ্র মহিলাকে দোষারোপ করছিল। তাকে পাপের জীবন থেকে রক্ষা করার ব্যাপারে তাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না। তারা কেবল নিজেদের 'ধার্মিকতা' জাহির করতে এবং দেখাতে চেয়েছিল যে, ওই মহিলাটি কত বড় পাপী। সেখানে দাঁড়িয়ে তারা সেই দরিদ্র মহিলার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিল-ঠিক যেমন তাদের পূর্বপুরুষ আদম হবাকে দেখিয়েছিলেন। আর এর মাধ্যমে তারা প্রকাশ করে দিল যে, তাদের অন্তরে তারা অভিযোগকারী শয়তানের সঙ্গে সম্বন্ধে ছিল। সেই কারণেই প্রভু যীশু ফরীশীদের বিশেষভাবে বলেছিলেন যে, শয়তানই তাদের পিতা (যোহন ৮:৪৪)।

প্রভু যীশু এসেছিলেন এই ধরনের নারীদের তাদের পাপ থেকে উদ্ধার করতে - তাদের নিন্দা করতে নয়। যোহন ৩:১৭ পদে আমরা পড়ি যে, ঈশ্বর তাঁর পুত্রকে জগৎকে নিন্দা করতে জগতে পাঠাননি, বরং জগৎকে উদ্ধার করতে পাঠিয়েছিলেন।

অভিযোগ এবং ঐশ্বরিক সংশোধনের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। প্রকাশিত বাক্য ২ ও ৩ অধ্যায়ে , প্রভু যোহনকে পাঁচটি মণ্ডলীর ব্যর্থ প্রাচীনদের ঐশ্বরিক সংশোধন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একইভাবে, পবিত্র আত্মা পৌলকে করিন্থীয়, গালাতীয় এবং থিষলনীকীয় মণ্ডলীগুলোকে ঈশ্বরীয় সংশোধন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই ধরনের সংশোধন একটি আত্মিক বিষয় - এবং ঈশ্বর তাঁর অভিষিক্ত দাসদের সময়ে সময়ে তাঁর লোকদের এই ধরনের সংশোধন করার জন্য ডাকেন। কিন্তু এই ধরনের সংশোধন সর্বদা প্রেমের সাথেই করা হবে।

অভিযোগ করার আত্মা সহজেই চেনা যায়। এটি সবসময় অপছন্দের মানুষদের প্রতি একটি নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে প্রকাশ পায়। আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষদের কখনো এভাবে অভিযুক্ত করবেন না। যেমন, আপনি অন্য লোকের সামনে নিজের সন্তানদের কখনো দোষারোপ করবেন না। সুতরাং, আপনি দেখতেই পাচ্ছেন যে মানুষের প্রতি প্রেমের অভাবই আপনার ভেতর থেকে অভিযোগের মনোভাবকে জাগিয়ে তোলে।

ঈশ্বরীয় সংশোধনের পরিচর্যা প্রভু কেবল তাঁর বিশ্বস্ত দাসদের-যেমন প্রেরিত যোহন ও পৌলকে-অর্পণ করেছেন। প্রভু সবাইকে এই ধরনের পরিচর্যার জন্য ডাকেন না। তাই সাবধান থাকুন। যখন আপনি"অভিযোগের পরিচর্যায়"নিযুক্ত থাকেন, তখন আপনি সহজেই নিজেকে এই ভেবে প্রতারিত করতে পারেন যে আপনি একটি ঈশ্বরীয় সংশোধনের পরিচর্যা করছেন।

যদি আপনার এই অভিযোগের মনোভাব বজায় রাখেন, তবে প্রভু আপনাকে বিরোধিতা করবেন, ঠিক যেমন তিনি ফরীশীদের বিরোধিতা করেছিলেন। অভিযোগ করার কাজ শয়তানের, এবং বিশ্বাসী হিসেবে এতে আমাদের কোনো অংশই থাকা উচিত নয়।

সর্বপ্রথম আমাদের এটা বুঝতে হবে যে, শয়তান ও তার অনুচরেরা আমাদের সহবিশ্বাসীদের মধ্যে কোনো না কোনো ভুলত্রুটি খুঁজে পেলে, সেগুলোর জন্য তাদের অভিযুক্ত করতে ক্রমাগত প্ররোচিত করবে। আর সেই অনুচরেরা আপনাকে আপনার সহবিশ্বাসীদের অনেক দোষ দেখাবে, যাতে আপনি তাদের অভিযুক্ত করতে উসকানি পান। যদি আপনি এই প্রলোভনে বশীভূত হন, তবে আপনি নিজেকে শয়তানি শক্তির প্রভাবে উন্মুক্ত করে দেবেন। অনেক বিশ্বাসীর নানা রোগে ভোগার এটি একটি কারণ হতে পারে।

আমাদের জীবন থেকে এই অভিযোগের মনোভাবকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই চূড়ান্ত কঠোর হতে হবে - ঠিক যেমন একজন শল্যচিকিৎসক অস্ত্রোপচার করে রোগীর শরীর থেকে ক্যান্সারের টিউমার সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করেন। আমাদের স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে হবে যে 'অভিযোগের মনোভাব' যেকোনো ক্যান্সারের চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ।

জন্ম থেকেই আমরা সবাই অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানোর এই মন্দ অভ্যাসটি অর্জন করেছি। আমরা বহু বছর ধরে মানুষের অনুপস্থিতিতে তাদের সমালোচনা করে এসেছি এবং তাদের অভিযুক্ত করার উদ্দেশ্যে তাদের মধ্যে কোনো না কোনো দোষ খুঁজে বের করেছি।

পরিশেষে: আসুন আমরা স্মরণ করি, প্রভু যীশু ফরীশীদের কী বলেছিলেন যে, কেবল নিষ্পাপ ব্যক্তিরাই অন্যদের দিকে পাথর ছুঁড়তে পারে। সুতরাং, আমাদের মধ্যে কেউই কাউকে অভিযুক্ত করার যোগ্য নই।

প্রভু আমাদের সকলকে এই শয়তানি আত্মা থেকে সম্পূর্ণরূপে রক্ষা করুন।

আমেন।