আমরা যারা মণ্ডলী পরিচালনা করি, আমাদের অবশ্যই ক্রুশের পথে চলার মাধ্যমে নিজেদের মণ্ডলীর অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হতে হবে। আমাদের অবশ্যই তাদের নেতা হওয়ার জন্য নয়, বরং তাদের সেবক হওয়ার জন্য প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে, ঠিক যেমন প্রভু যীশু ছিলেন। প্রভু যীশু বলেছিলেন, “জাতিগণের মধ্যে যাহারা শাসন কর্ত্তা বলিয়া গণ্য, তাহারা তাহাদের উপরে প্রভুত্ব করে এবং তাহাদের মধ্যে যাহারা মহান, তাহারা তাহাদের উপরে কর্ত্তৃত্ব করে। তোমাদের মধ্যে সেরূপ নয়; কিন্তু তোমাদের মধ্যে যে কেহ মহান হইতে চায়, সে তোমাদের পরিচারক হইবে; এবং তোমাদের মধ্যে যে কেহ প্রধান হইতে চায়, সে সকলের দাস হইবে। কারণ বাস্তবিক মনুষ্যপুত্রও পরিচর্য্যা পাইতে আসেন নাই, কিন্তু পরিচর্য্যা করিতে আসিয়াছেন” (মার্ক ১০:৪২-৪৫)।
আমাদের কখনোই নিজেদের পদ বা ‘নেতা’ উপাধিকে ভালোবাসা উচিত নয় (মথি ২৩:১০)। মণ্ডলীর অন্য কোনো ভাই বা বোনের চেয়ে নিজেদেরকে কোনোভাবেই বড় ভাবা উচিত নয়। বস্তুত, মণ্ডলীর অন্য সকলকে নিজেদের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য করার জন্য আমাদের আদেশ দেওয়া হয়েছে – আত্মিকভাবে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নয় (যা অসম্ভব), বরং অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে। (ফিলিপীয় ২:৩)।
নেতা হওয়ার আগে আমাদের অবশ্যই অন্যদের ভাই হতে হবে। প্রেরিত যোহন ৯৫ বছর বয়সে মণ্ডলীগুলোকে লেখার সময় নিজেকে “আমি যোহন, তোমাদের ভাই…” (প্রকাশিত বাক্য ১:৯) বলে সম্বোধন করেন। দুর্ভাগ্যবশত, অনেক নেতা নিজেদেরকে কেবল নেতা হিসেবেই মনে করেন। মণ্ডলীর মধ্যে সর্বদা সাধারণ ভাই হিসেবে থাকার জন্য আমাদের অবশ্যই ঈশ্বরের কাছে অনুগ্রহ চাইতে হবে। আর যদি আমাদের এভাবে জীবনযাপন করতে হয়, তবে আমাদের অবশ্যই সর্বদা ঈশ্বরের সঙ্গে এক ঘনিষ্ঠ “মুখোমুখি” সম্পর্কে থাকতে হবে।
আধ্যাত্মিক কর্তৃত্ব ঈশ্বর-প্রদত্ত হওয়ায়, তা এমন কিছু নয় যা আমাদের কখনও অন্যদের উপর জাহির করতে হবে বা অন্যদেরকে এর বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করতে হবে। আমাদের কখনও অন্যদেরকে আমাদের বাধ্য হতে জোর করা উচিত নয়, এবং আমাদের কখনও কারও সঙ্গে বিবাদ করা উচিত নয় (২ তীমথিয় ২:২৪, ২৫)। যদি ঈশ্বর আমাদের সমর্থন করেন, তবে আমাদের কখনও নিজেদের অবস্থান রক্ষা করতে হবে না, কারণ স্বয়ং ঈশ্বরই আমাদের রক্ষা করবেন এবং আমাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন। কিন্তু যদি কেউ নিজেই অন্যদের উপর তার কর্তৃত্ব জাহির করতে চায়, তবে সেটাই হবে সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ যে তার কর্তৃত্ব ঈশ্বর-প্রদত্ত নয়।
একজন আধ্যাত্মিক নেতা আক্রান্ত বা অপবাদের শিকার হলে কখনো নিজেকে রক্ষা করেন না বা নিজের কাজের ন্যায্যতা প্রমাণের চেষ্টা করেন না। বাইবেল বলে, “খ্রীষ্টই তোমাদের জন্য এক আদর্শ রাখিয়া গিয়াছেন। যেন তোমরা তাঁহার পদচিহ্নের অনুগমন কর;… তিনি নিন্দিত হইলে প্রতিনিন্দা করিতেন না; দুঃখভোগ কালে তর্জ্জন করিতেন না; তিনি তাঁর বিষয় ঈশ্বরের হাতে ছেড়ে দিয়েছিলেন, যিনি সর্বদা ন্যায্য বিচার করেন” (১ পিতর ২:২১, ২৩)।
যীশু মানুষের উপর তাঁর শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাদের সাথে কখনো বিবাদ করেননি। তিনি তাঁর পক্ষ সমর্থন ও তাঁকে নির্দোষ প্রমাণ করার ভার ঈশ্বরের উপরই ছেড়ে দিয়েছিলেন। মণ্ডলীর সকল নেতাকে অবশ্যই এই পথেই চলতে হবে। যদি আমরা নিজেরা ঈশ্বরের কর্তৃত্বের অধীনে জীবনযাপন করি, তবে আমরা নিরাপদে আমাদের বিষয় ঈশ্বরের হাতে ছেড়ে দিতে পারি। আমরা আমাদের বিরুদ্ধে সমস্ত অপবাদ, সমালোচনা এবং পরচর্চা উপেক্ষা করতে পারি, কারণ ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি হলো যে তিনি নিজেই তাঁর দাসদের এই ধরনের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবেন। একজন আধ্যাত্মিক নেতাকে আক্রমণ করার জন্য অন্যদের দ্বারা গঠিত কোনো অস্ত্রই কখনো সফল হবে না (যিশাইয় ৫৪:১৭)। আমি আমার জীবনে বারবার এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেছি। এই ধরনের অভিজ্ঞতা লাভ করা এক আশীর্বাদ।
এই ধরনের আধ্যাত্মিকভাবে মননশীল নেতার চরম অভাবের কারণে আজকের মণ্ডলী মারাত্মকভাবে ভুগছে। প্রভু যীশু একবার তাঁর কাছে আসা জনতার দিকে তাকিয়ে তাদের জন্য গভীর করুণা অনুভব করেছিলেন। “লোকেরা পালকবিহীন মেষের ন্যায় ছিল; তাদের সমস্যা এতই গুরুতর ছিল যে, তারা জানত না কী করবে বা সাহায্যের জন্য কোথায় যাবে” (মথি ৯:৩৬ – Living Bible)। পরিস্থিতি আজও ঠিক একই রকম। মণ্ডলীর অভাবগ্রস্ত লোকদের সাহায্য করার জন্য আমাদের এমন নেতার একান্ত প্রয়োজন, যাঁদের মধ্যে পালকের হৃদয় এবং সেবকের আত্মা রয়েছে; যাঁরা ঈশ্বরকে ভয় করেন এবং তাঁর বাক্যে কম্পিত হন।
আমাদের কখনোই কাউকে আমাদের প্রশংসাকারী হতে দেওয়া উচিত নয়। অন্যথায়, তারা তাদের মস্তক হিসেবে খ্রীষ্টের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করে বড় হতে পারবে না। আমাদের কখনোই কাউকে নিজেদের সাথে যুক্ত করা উচিত নয়। পরিবর্তে, আমাদের উচিত প্রত্যেককে কেবল ঈশ্বরের সামনে জীবনযাপন করার জন্য উৎসাহিত করা। তারা যা কিছু করে, তার জন্য আমাদের অনুমোদন যেন না খোঁজে। আর যদি আমরা দেখি কেউ আমাদের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে, তবে তাকে অবিলম্বে ঝেড়ে ফেলতে হবে। যখন আমরা অন্যদের উপদেশ দিই, তখন তাদের আমাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করার এবং নিজেদের মতো করে কাজ করার স্বাধীনতাও দিতে হবে। আর এর ফলে যদি তারা কোনো কিছুতে গড়বড় করে ফেলে, তবে আমাদের দ্রুত তাদের সাহায্য করতে হবে এবং কখনোই বলা যাবে না, “আমি তো আগেই বলেছিলাম।” একজন সত্যিকারের আধ্যাত্মিক নেতা এভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখাবেন।
“পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হও… এবং খ্রীষ্টের ভয়ে এক জন অন্য জনের বশীভূত হও” (ইফিষীয় ৫:১৮,২১)।
প্রভু যীশু আমাদের জন্য এক আদর্শ, কারণ তিনি ৩০ বছর ধরে তাঁর পার্থিব পরিস্থিতি এবং পার্থিব পিতামাতার কর্তৃত্বের কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন। এই ক্ষেত্রগুলিতে বিশ্বস্ত থাকার পরেই, তাঁর পিতা বাপ্তিস্মের সময় তাঁকে এই সনদটি দিয়েছিলেন: “ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইহাঁতেই আমি প্রীত”। আমাদের মতো নেতাদেরও সেই পথেই চলতে হবে।
বাইবেল বলে, “তোমরা তোমাদের নেতাদিগের আজ্ঞাগ্রাহী ও বশীভূত হও, কারণ নিকাশ দিতে হইবে বলিয়া তাঁহারা তোমাদের প্রাণের (আত্মার) নিমিত্ত প্রহরি-কার্য্য করিতেছেন,-- যেন তাঁহারা আনন্দপূর্ব্বক সেই কার্য্য করেন, আর্ত্তস্বরপূর্ব্বক না করেন; কেননা ইহা তোমাদের পক্ষে মঙ্গলজনক নয়।” (ইব্রীয় ১৩:১৭)। আর এই আদেশ নেতাদের জন্যও প্রযোজ্য। ঈশ্বর আমাদের যে পরিস্থিতিতে রাখেন, তাঁর কাছে এবং আমাদের উপর তাঁর নিযুক্ত যেকোনো কর্তৃপক্ষের কাছে—জগতে ও মণ্ডলী উভয় ক্ষেত্রেই—আমাদের অবশ্যই বশ্যতা স্বীকার করতে হবে। তাহলে আমরাও ঈশ্বরের কাছ থেকে অনুরূপ সাক্ষ্য লাভ করতে পারব—যে আমরা তাঁর প্রীতিকর।
আমাদের কখনোই দাবি করা উচিত নয় যে কেউ আমাদের বশ্যতা স্বীকার করুক। শুধুমাত্র নেতা হওয়ার কারণে যদি আমরা অন্যদের কাছ থেকে বশ্যতা দাবি করি, তবে তা এটাই প্রমাণ করে যে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং ঈশ্বরকে সত্যিই জানি না — কারণ ঈশ্বর মানুষকে তাঁর কাছে বশ্যতা স্বীকার করা বা তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার স্বাধীনতা দিয়েছেন — এবং আমরা ঈশ্বরের চেয়ে বড় নই। তাই নেতা হিসেবে কারও কাছ থেকে বশ্যতা দাবি করার কোনো অধিকার আমাদের নেই। আমাদেরকে সেবা করার জন্য আহ্বান করা হয়েছে, বশ্যতা দাবি করার জন্য নয়।
আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যেন আমরা আমাদের ব্যক্তিত্বের শক্তির দ্বারা কাউকে আমাদের বশীভূত না করি। একজন দৃঢ়চেতা নেতার পক্ষে তার ব্যক্তিত্বের শক্তিতে মণ্ডলীর অন্যদের উপর কর্তৃত্ব করা খুবই সহজ! এটা শয়তানি। এই ধরনের প্রাণিক শক্তিকে অবশ্যই দমন করতে হবে। মণ্ডলীর লোকেরা যেন আমাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করতে স্বাধীন বোধ করে। আমাদের দেখে কেউ যেন ভয় না পায়। প্রভু যীশু এমনকি পিতরকেও তাঁকে তিরস্কার করার অনুমতি দিয়েছিলেন (মথি ১৬:২২)। নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, আপনার ভাইয়েরা কি আপনাকে তিরস্কার করতে স্বাধীন বোধ করে? যদি না করে, তবে আপনাকে নিজের অহংকার থেকে পরিত্রাণ লাভ করতে হবে এবং নিজেকে নম্র করে প্রভু যীশুর মতো হতে হবে, যখন তিনি এই পৃথিবীতে জীবন-যাপন করতেন।
আমাদের কখনোই মণ্ডলীকে একনায়কতন্ত্রের মতো চালানো উচিত নয়, যেখানে ভাই ও বোনেরা বহু নিয়মকানুনের বোঝায় জর্জরিত হয়ে জীবনযাপন করে। তা মণ্ডলীকে একটি আইনবাদী ক্লাবে পরিণত করবে, যেখানে সত্যিকারের ঈশ্বরভক্ত ভাই ও বোনেরা কখনোই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে না। কিন্তু তার পরিবর্তে, জাগতিক ‘হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলানো লোকেরা’ (যারা আপনাকে নিঃশর্তভাবে মান্য করে) ক্ষমতা পাবে। এটাই মন্দ।
আমাদের মণ্ডলীগুলোতে অনেক নিয়মকানুন তৈরি করে আমরা অন্যদের মধ্যে পবিত্রতা সৃষ্টি করতে পারি না। আমাদের অবশ্যই ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করতে হবে, কিন্তু মানুষকে কোনো নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলতে বাধ্য করা উচিত নয়। যদি লোকেরা ব্যক্তিগত প্রত্যয় ছাড়া কেবল আমাদের খুশি করার জন্য কাজ করে, তবে তাদের সেই কাজগুলো নিষ্ফল কর্মে পরিণত হবে, যদিও মানুষের চোখে সেই কাজগুলো “ধার্মিক” ও ভালো বলে মনে হতে পারে।
মৃত কাজ হলো সেই সব কাজ যা মানুষকে খুশি করতে বা প্রভাবিত করতে করা হয়। কিন্তু সমস্ত মৃত কাজ ঈশ্বরের কাছে অগ্রহণযোগ্য। ঈশ্বর সেই কাজগুলোই গ্রহণ করেন যা কেবল তাঁকেই সন্তুষ্ট করার জন্য করা হয়। যদি আমরা ভাই-বোনদেরকে এই ধরনের কাজ করতে পরিচালিত করতে চাই, তবে তাদেরকে অবশ্যই স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিতে হবে – ঠিক ততটাই স্বাধীনভাবে, যতটা স্বাধীনভাবে স্বয়ং ঈশ্বর এদন উদ্যানে আদম ও হবাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। প্রকৃত পবিত্রতা কেবল ঈশ্বরের ভয়ের মাধ্যমেই পূর্ণতা লাভ করতে পারে (২ করিন্থীয় ৭:১), কোনো মণ্ডলী-নেতার ভয়ের মাধ্যমে নয়।
ঈশ্বর যদি আপনার মণ্ডলীর ছোট ভাইদের পরিচর্যার এমন কোনো পদে উন্নীত করেন, যেখানে লোকেরা আপনার চেয়ে তাদের ওপর বেশি আস্থা রাখে, তবে আপনাকে অবশ্যই এটিকে ঈশ্বরের কাজ বলে স্বীকার করতে হবে এবং অনুগ্রহপূর্বক সেইসব অভিষিক্ত ছোট ভাইদের মণ্ডলীর মধ্যে প্রাধান্য দিতে হবে। অন্যথায় আপনি নিজেকে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখবেন।
আপনি যদি একজন স্নেহশীল পার্থিব পিতা হন, তবে আপনি অবশ্যই চাইবেন যে আপনার সন্তানরা আপনার চেয়ে বেশি শিক্ষা লাভ করুক। একজন প্রকৃত আধ্যাত্মিক পিতারও একই রকম আকাঙ্ক্ষা থাকবে – যে তাঁর আধ্যাত্মিক সন্তানরা আধ্যাত্মিকভাবে তাঁকে ছাড়িয়ে যাক। যাদের আপনি সেবা করেন, তাদের জন্য যদি আপনার এমন আকাঙ্ক্ষা না থাকে, তবে আপনি একজন আধ্যাত্মিক পিতা নন। তাহলে আপনি নেতা হওয়ার অযোগ্য। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার এলাকায় খ্রীষ্টের দেহ গড়ে তোলার পথে একটি বাধা হয়ে দাঁড়াবেন।
যেসব নেতার কর্তৃত্ববাদী মনোভাব রয়েছে এবং যারা মণ্ডলীর বন্ধুদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখান, তারা হয়তো মনে করতে পারেন যে এই ধরনের পাপপূর্ণ আচরণের জন্য তারা ঈশ্বরের বিচার থেকে রক্ষা পেয়েছেন। কিন্তু প্রভু সবকিছুর প্রতি লক্ষ্য রাখেন এবং এই ধরনের বিষয়গুলির একটি সঠিক হিসাব রাখেন। তাঁর নির্ধারিত সময়ে, তিনি এই ধরনের অবিশ্বস্ত নেতাদের কঠোরভাবে বিচার করবেন। তখন সবাই দেখবে যে, প্রভু এমন নেতাকেও রেহাই দেন না যিনি ভণ্ড, বা যিনি তাঁর মেষপালের উপর প্রভুত্ব করেন, বা যিনি অন্যদের উপর কঠোরভাবে শাসন করেন, ইত্যাদি। ঈশ্বরের কাছে কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই! তাই, “যে মনে করে, আমি দাঁড়াইয়া আছি, সে সাবধান হউক, পাছে পড়িয়া যায়” (১ করিন্থীয় ১০:১২)।
ইব্রীয় ১২:২৬-২৮ পদে বলা হয়েছে যে, “ঈশ্বর সেই সমস্ত কিছুকে কম্পানিত করিবেন ও দূরীকৃত করিবেন যা কম্পমান, যেন অকম্পমান বিষয় সকল স্থায়ী হয়।”
আমাদের চারপাশে, খ্রীষ্টীয় জগতে, আমরা দেখি মহান প্রচারকরা পাপে পতিত হচ্ছেন, এবং যে মণ্ডলীগুলো নতুন নিয়মের আদর্শ অনুসরণ করছে বলে মনে হচ্ছিল, সেগুলো বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে ও একেবারে নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। আজকের এই চলমান অস্থিরতার মাঝে, খ্রীষ্টীয় জগতে একদিকে আমরা যে জাগতিকতা ও আপোষ দেখি এবং অন্যদিকে যে সমস্ত বিধি-নিষেধ ও ফরীশীবাদ বিদ্যমান, তার মাঝে যদি আমরা খ্রীষ্টের দেহকে অটলভাবে গড়ে তুলতে চাই, তবে আমাদের অবশ্যই ঈশ্বরের প্রীতিজনক আরাধনা করতে হবে, “ভক্তি ও ভয় সহকারে – কারণ আমাদের ঈশ্বর এক গ্রাসকারী অগ্নিস্বরূপ” (ইব্রীয় ১২:২৯)।
আমাদের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত, আমরা যেন সর্বদা নম্রতার পথে চলি। আমেন।