লিখেছেন :   জ্যাক পুনেন বিভাগগুলি :   ঈশ্বরকে জানা শিষ্য
WFTW Body: 

প্রকাশিত বাক্য ২২:২ পদে আমরা পড়ি, নদীর এপারে ওপারে জীবন-বৃক্ষ আছে, তাহা দ্বাদশ বার (প্রকার) ফল উৎপন্ন করে, এক এক মাসে আপন আপন ফল দেয়, এবং সেই বৃক্ষের পত্র জাতিগণের আরোগ্য নিমিত্তক। আমরা আদিপুস্তক ২ অধ্যায় এবং প্রকাশিত বাক্য ২২ অধ্যায়ের মধ্যে অনেক মিল খুঁজে পাই। জীবন-বৃক্ষ সয়ং ঈশ্বরের জীবনের প্রতীক - অনন্তজীবন বা ঐশ্বরিক প্রকৃতি যেটিতে আমরা এখন অংশ নিতে পারি। অনন্তজীবন বলতে "চিরকাল স্থায়ী" বোঝায় না, কারণ যারা আগুনের হ্রদে যায় তারাও "চিরকালের জন্য জীবিত থাকে"। তবে তারা অনন্তজীবন পায় না। অনন্তজীবন বলতে এমন একটি জীবন বোঝায় যার কোনও শুরু ছিল না এবং শেষও নেই। এটাই স্বয়ং ঈশ্বরের জীবন। এটাই জীবন-বৃক্ষের প্রতীক। আদম বোকামি করে জীবন-বৃক্ষের পরিবর্তে জ্ঞান-বৃক্ষের কাছে গিয়েছিলেন, ঠিক যেমনটি আজকে অনেকেই করে থাকেন, যারা জীবনের পরিবর্তে বাইবেল জ্ঞানের অনুসন্ধান করেন। প্রকাশিত বাক্য ২২ অধ্যায়ে ভাল-মন্দের জ্ঞানের বৃক্ষটি পাওয়া যায় না। এটি অদৃশ্য হয়ে গেছে। ঈশ্বর জীবন-বৃক্ষের সামনে একটি জ্বলন্ত ঘূর্ণায়মান খড়গ রেখেছেন (আদিপুস্তক ৩:২৪)। এটি আমাদের শেখায় যে আমাদের যদি জীবন-বৃক্ষের অংশ নিতে হয় তবে আমাদের স্ব-জীবনের উপরে একটি খড়গ পড়া আবশ্যক। এই কারণেই বেশিরভাগ খ্রীষ্টানরা বরং জ্ঞান-বৃক্ষের কাছে যায়, যার সামনে খড়গ নেই। বাইবেল জ্ঞান অর্জন করার জন্য আমাদের স্ব-জীবনকে মৃতবৎ করতে বা প্রতিদিনের ক্রুশ বহন করতে হয় না। তবে ঈশ্বরের স্বভাবে অংশ গ্রহণ করার জন্য, আমাদের সর্বদা "নিজ দেহে যীশুর মৃত্যুকে বহন করতে হবে" (২ করিন্থীয় ৪:১০)। আমাদের উপর খড়গটি পড়ার অনুমতি দিতে হবে। ক্রুশের পথ হচ্ছে জীবন-বৃক্ষের পথ। খড়গটি প্রভু যীশুর উপরে পড়েছিল এবং তিনি ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন। যেহেতু আমরাও তাঁর সাথে ক্রুশারোপিত হয়েছি তাই খড়গটি আমাদের উপরেও পড়তে চলেছে। এইভাবে আমরা জীবন-বৃক্ষে অংশ গ্রহণ করতে পারি, যা প্রতি মাসে এক নতুন ধরণের ফল উৎপন্ন করে এবং যার পত্রগুলি নিরাময় করে।

প্রকাশিত বাক্য ২২:৭ পদে আমরা পড়ি, আর দেখ, আমি শীঘ্রই আসিতেছি; ধন্য সেই জন, যে এই গ্রন্থের ভাববাণীর বচন সকল পালন করে। প্রভু এখানে বলেননি যে তিনি অবিলম্বে আসছেন। না। তিনি বলছেন যে তিনি শীঘ্রই আসছেন - হঠাৎ- রাতে চোরের মতো, যেকোন সতর্কতা ছাড়াই।

প্রকাশিত বাক্য ২২:৮,৯ পদে আমরা পড়ি, আমি যোহন এই সমস্ত দেখিলাম ও শুনিলাম। এই সকল দেখিলে ও শুনিলে পর, যে দূত আমাকে এই সমস্ত দেখাইতেছিলেন, আমি ভজনা করিবার জন্য তাঁহার চরণের সম্মুখে পড়িলাম। আর তিনি আমাকে কহিলেন, 'দেখিও এমন কর্ম্ম করিও না; আমি তোমার সহদাস, এবং তোমার ভ্রাতা ভাববাদীগণের ও এই গ্রন্থে লিখিত বচন পালনকারিগণের সহদাস; ঈশ্বরেরই ভজনা কর'। যোহন সেই ব্যক্তিকে চিনতে ভুল করেছিলেন যাঁকে ঈশ্বর ব্যবহার করেছিলেন তাঁর (যোহন) কাছে এই সমস্ত সত্য শেখানোর জন্য। তিনি সেই স্বর্গদূতের চরণে উপাসনা করতে গিয়েছিলেন যিনি তাঁকে এই সমস্ত বিষয় দেখিয়েছিলেন। কিন্তু স্বর্গদূত দ্রুত বললেন, "এমন কর্ম্ম করিও না। আমি তোমার সহদাস। ঈশ্বরেরই ভজনা কর।" এটাই ঈশ্বরের সত্যিকারের দাসের একটি চিহ্ন, যখনই তিনি কাউকে তাঁর সাথে যুক্ত হতে দেখেন, তিনি তৎক্ষণাৎ নিজেকে সেই ব্যক্তির থেকে বিচ্ছিন্ন করেন, যাতে সেই ব্যক্তি প্রভুকে জড়িয়ে থাকতে পারেন এবং মানুষকে নয়! স্বর্গে তাঁরা কেবল একটি গান গায় - নতুন গান - বলেন "কেবলমাত্র তুমি যোগ্য"। এই স্বর্গদূত সেই গানটি শিখেছিলেন এবং তাই তিনি যোহনকে দ্রুত সরিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাঁকে কেবলমাত্র ঈশ্বরকে গৌরব দিতে অনুরোধ করেছিলেন।

প্রকাশিত বাক্য ২২:১১ পদে আমরা পড়ি, যে অধর্ম্মাচারী, সে ইহার পরেও অধর্ম্মাচারণ করুক; এবং যে কলুষিত, সে ইহার পরেও কলুষিত হউক; এবং যে ধর্ম্মিক, সে ইহার পরেও ধর্ম্মাচারণ করুক; এবং যে পবিত্র, সে ইহার পরেও পবিত্রীকৃত হউক। এটি একটি আশ্চর্যজনক উপদেশ যা আমরা বাইবেলের শেষ পৃষ্ঠায় দেখতে পাই। এটি লোকেদের "অধর্ম্মাচারণ করা" চালিয়ে যেতে এবং "অন্যায় করা" চালিয়ে যেতে বলে। এর অর্থ এই: "আপনি যদি পুরো বাইবেল পড়ে অন্তিম পাতায় এসে পড়ে থাকেন এবং আপনি এখনও অনুতাপ করতে বা আপনার পাপগুলি ত্যাগ করতে না চান, তবে এগিয়ে যান এবং অধর্ম্মাচারণ করুন এবং অন্যায় করতে থাকুন। আপনার জন্য কোন আশা নেই"। প্রকাশিত বাক্য পুস্তকে পাপ সম্পর্কিত ঈশ্বরের বিচারের বিষয়ে পড়ার পরেও যদি আপনি নিজের অভিলাষে লিপ্ত হতে চান এবং পাপের আনন্দ উপভোগ করতে চান, এবং অশ্লীল বইগুলি পড়তে এবং অশ্লীল সিনেমাগুলি দেখতে চান, যদি আপনি এখনও কারও বিরুদ্ধে তিক্ততা ধরে রাখতে চান এবং ক্ষমাশীল না হোন, যদি আপনি এখনও অপবাদ এবং পরচর্চা করতে চান এবং হিংসা করতে এবং নিজের জন্য এবং এই অসৎ জগতের জন্য বাঁচতে চান, তবে এগিয়ে যান এবং এটাই করুন। ঈশ্বর আপনাকে বাধা দেবেন না। তবে ১১ পদের দ্বিতীয় অংশে ধর্ম্মিকদের জন্য কি লেখা আছে তা দেখুন। "যে ধর্ম্মিক, সে ইহার পরেও ধর্ম্মাচারণ করুক; এবং যে পবিত্র, সে ইহার পরেও পবিত্রীকৃত হউক"। এই পবিত্রতার অনুসরণের কখনও শেষ হয় না। সুতরাং আরও ধার্ম্মিকতা ও পবিত্রতার অনুসরণ করুন। যে অবস্থায় আমরা আমাদের জীবন শেষ করি তা নির্ধারণ করতে চলেছে যে আমরা কীভাবে আমাদের অনন্তকাল কাটাব। আমরা যদি পাপ এবং নোংরামির মধ্যে জীবনযাপন করছি, তবে আমরা আগুনের হ্রদে অনন্তকাল ধরে পাপ, নোংরামি ও অন্যায় কাজ চালিয়ে যাব। আমরা যদি এই জীবনে ধার্ম্মিকতা এবং পবিত্রতার অনুধাবন করি, তবে তা অনন্তকালেও আমাদের সাধনা হবে। আমাদের মৃত্যুর সময় থেকে আমাদের অবস্থা চিরকালের জন্য স্থায়ী হতে চলেছে। "বৃক্ষ যখন দক্ষিণে কিম্বা উত্তরে পড়ে, তখন সেই বৃক্ষ যে দিকে পড়ে, সে সেই দিকে থাকে" (উপদেশক ১১:৩)।

প্রকাশিত বাক্য ২২:২১ পদে আমরা পড়ি, প্রভু যীশুর অনুগ্রহ পবিত্রগণের সঙ্গে থাকুক। আমেন। ঈশ্বরের বাক্যটি যেভাবে শেষ হয়েছে তা দেখতে বিস্ময়কর লাগে। কেবল অনুগ্রহের মাধ্যমেই আমরা নতুন যিরূশালেমের অংশীদার হতে পারি। ঈশ্বর যে শক্তি এবং সাহায্য দিয়ে থাকেন, কেবলমাত্র তার দ্বারা আমরা সেই বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারি যা আমাদেরকে এত বছর ধরে দাস করে রেখেছে। অনুগ্রহ আমাদের পাপ ক্ষমা করে! এবং অনুগ্রহ আমাদের পাপ, জগৎ এবং শয়তানকে পরাজিত করতে সহায়তা করে! এই শব্দটির (অনুগ্রহ) সাথে পুরাতন নিয়মের শেষ শব্দটির তুলনা করুন- যা হল "অভিশাপ"। মালাখি ৪:৬ পদে ঈশ্বর বলেছেন, "পাছে আমি আসিয়া পৃথিবীকে আভিশাপে আঘাত করি"। নতুন নিয়মটি যীশুর জন্মের সাথে শুরু হয় এবং একটি আশীর্বাদ-বাক্য দিয়ে শেষ হয় যে "আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ সকলের সঙ্গে থাকুক"। এটি কতই না অপূর্ব বিষয় যে আমরা সেই অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারি যা দিয়ে পুরাতন নিয়ম শেষ হয়েছে এবং নতুন নিয়মে অনুগ্রহের অধীনে আসতে পারি, আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ঈশ্বরের আশীর্বাদ অনুভব করতে পারি এবং অনন্তকালের জন্য ঈশ্বরের অধিষ্ঠানের অংশী হতে পারি। হাল্লেলুইয়া! সমস্ত গৌরব, প্রশংসা এবং মহিমা ঈশ্বরের এবং মেষশাবকের জন্য যিনি আমাদের পাপের জন্য হত হয়েছিলেন। আমেন এবং আমেন!