মথি ৭:৬ পদ থেকে শুরু করে আমরা পর্বতে দত্ত উপদেশের শেষ অনুচ্ছেদগুলো পাই। "পবিত্র বস্তু কুকুরদিগকে দিও না, এবংতোমাদের মুক্তা শূকরদিগের সম্মুখে ফেলিও না;পাছে তাহারা পা দিয়া তাহা দলায়, এবং ফিরিয়া তোমাদিগকে ফাড়িয়া ফেলে"(মথি ৭:৬)। প্রভু যীশু আমাদের শেখাচ্ছেন যে, আমরা কার সাথে কী কথা বলব, সে বিষয়ে আমাদের বিচক্ষণ হতে হবে। হিতোপদেশ ২৬:৪ পদে আমাদের বলা হয়েছে যে, আমরা যেন মূর্খকে তার মূর্খতা অনুসারে উত্তর না দিই। যারা সত্যের কদর করে না, তাদের কাছে যেন আমরা সত্য প্রকাশ না করি। এই কারণেই যখনই আমরা মানুষের সাথে কথা বলি, আমাদের বিচক্ষণ হওয়া প্রয়োজন। আমাদের সবার জন্য একটি নির্দিষ্ট বার্তা থাকা উচিত নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে ঈশ্বর আমাকে কী বলতে চান, তা শোনার জন্য আমাদের ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে হবে। প্রভু যীশু এভাবেই জীবনযাপন করতেন, এবং শাস্ত্রের যেকোনো পদ বোঝার চেষ্টা করার সময় আমাদের অবশ্যই প্রভু যীশুর উদাহরণের দিকে তাকাতে হবে।
যিশাইয় ৫০:৪ পদে প্রভু যীশু খ্রীষ্ট সম্বন্ধে একটি ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে, যা সেইসব লোকদের জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক যারা ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করেন এবং ভাবেন, "ঈশ্বরের বার্তা হিসেবে আমি একজন ব্যক্তিকে কী দেব?" আমাকে প্রথমে তার আত্মিক অবস্থা বুঝতে হবে। এই কারণেই যখন আমি কারো কাছে ঈশ্বরের বাক্য বলি, তখন আমার ঈশ্বরের কাছ থেকে ভবিষ্যদ্বাণীমূলক অন্তর্দৃষ্টির প্রয়োজন হয়। ঈশ্বরের বাক্য দেওয়া একটি অতিপ্রাকৃত বিষয়। আপনি যদি এটিকে কেবল বক্তৃতা দেওয়ার মতো ভাবেন, যেমন রসায়ন শেখানো, তাহলে আপনি যেকোনো সময় যেকোনো ব্যক্তিকে বাইবেল শেখাতে পারেন। কিন্তু আপনি যদি ব্যক্তির আত্মিক স্তর অনুযায়ী ঈশ্বরের বাক্য পরিবেশন করতে চান, তবে আপনার অতিপ্রাকৃত অন্তর্দৃষ্টির প্রয়োজন, যা কেবল ঈশ্বরই দিতে পারেন। যিশাইয় ৫০:৪ পদে বলা হয়েছে (এটি খ্রীষ্টকে নির্দেশ করে), "প্রভু সদাপ্রভু আমাকে শিক্ষাগ্রাহীদের জিহ্বা দিয়াছেন, যেন আমি বুঝিতে পারি, কিরূপে ক্লান্ত লোককে বাক্য দ্বারা সুস্থির করিতে হয়।" অন্য কথায়, "আমার পথে আসা কোনো ক্লান্ত ব্যক্তির জন্য সঠিক কথাটি বলার উদ্দেশ্যে, আমার পিতা ঈশ্বর প্রতিদিন সকালে আমাকে জাগিয়ে তোলেন এবং একজন শিষ্যের মতো শোনার জন্য সকালে আমার কানকে জাগিয়ে তোলেন।" প্রভু যীশু এখানে বলছেন যে, তিনি প্রতিদিন শুনবেন এবং ক্রমাগত শুনবেন, যাতে তাঁর কাছে আসা লোকদের তিনি উপযুক্ত কথাটি বলতে পারেন।
এর একটি উদাহরণ যোহন ৮ অধ্যায়ে রয়েছে। আমরা পড়ি যে, ফরীশীরা ব্যভিচারে ধরা পড়া এক মহিলাকে প্রভু যীশুর কাছে নিয়ে এসে পুরাতন নিয়মের শাস্ত্র উদ্ধৃত করছিল, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা ছিল যে তাকে পাথর মেরে হত্যা করতে হবে। প্রভু যীশু তাতে দ্বিমত পোষণ করেননি, কারণ তিনি পুরাতন নিয়মের শাস্ত্র জানতেন। শত শত বছর আগে তিনি নিজেই তা মোশিকে দিয়েছিলেন! তাহলে তিনি কী করলেন? বলা হয়েছে যে, প্রভু যীশু কোনো উত্তর দেননি। তারা সেই মহিলার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেই থাকল, আর যীশু কেবল তাঁর আঙুল দিয়ে মাটিতে কিছু লিখতে লাগলেন (যোহন ৮:৬)। তিনি পিতার কাছ থেকে একটি স্পষ্ট নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। "আমি এই লোকদের কী দেব? এই অসহায় মহিলাকে যারা পাথর মেরে হত্যা করতে চায়, তাদের জন্য উপযুক্ত নির্দেশ কোনটি?" তিনি শাস্ত্রের বিরোধিতা করতে যাচ্ছিলেন না, কারণ যে শাস্ত্র তিনি নিজেই মোশিকে দিয়েছিলেন, তাতে তাকে পাথর মেরে হত্যা করার কথাই বলা ছিল। যখন তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকে নির্দেশ পেলেন, তিনি মাথা তুলে তাদের বললেন (যোহন ৮:৭ এর ভাবানুবাদ),"তোমাদের মধ্যে যে নিষ্পাপ,সেই প্রথম ইহাকে পাথর মারুক। এগিয়ে যাও- তোমরা বিধান অনুসারে এই মহিলাকে পাথর ছুঁড়তে পারো, কিন্তু কেবল নিষ্পাপ ব্যক্তিই প্রথম পাথর ছুঁড়তে পারে।" আর এতে বলা হয়েছে যে, বয়স্কদের দিয়ে শুরু করে তারা সবাই চলে গেল, কারণ বয়স্করাই সবচেয়ে বেশি পাপ করেছিল।
পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য একটি শব্দই যথেষ্ট ছিল! এর জন্য পুরো একটি ধর্মোপদেশের প্রয়োজন হয়নি। এমন আরও অনেক সময় ছিল যখন প্রভু যীশু কিছুই বলতেন না। যেমন, একবার যখন কেউ তাঁকে একটি প্রশ্ন করেছিল, তিনি উত্তরে বললেন, " আমিও তোমাদিগকে একটি কথা জিজ্ঞাসা করি: যোহনের বাপ্তিস্ম কোথা হইতে হইয়াছিল? স্বর্গ হইতেনা মনুষ্য হইতে ?" তখন তাহারা পরস্পর তর্ক করিয়া বলিল, "যদি বলি স্বর্গ হইতে, তা হইলে এ আমাদিগকে বলিবে, তবে তোমরা তাঁহাকে বিশ্বাস কর নাই কেন? আর যদি বলি মনুষ্য হইতে, লোকসাধারণকে ভয় করি?'"তাই তারা কী উত্তর দেবে তা বুঝতে না পেরে বলল, " আমরা জানি না। আমরা কিছু বলব না।" তখন প্রভু যীশু বললেন, "বেশ, আমিও তোমাদিগকে বলিব না" (মথি ২১:২৭)।
প্রভু যীশুর সবার সাথে আচরণ করার কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি ছিল না। মাঝে মাঝে লোকেরা তাঁর কাছে এসে বোকার মতো প্রশ্ন করত, যেমন, "এক ব্যক্তি মারা গেল এবং তার স্ত্রীর সাথে তার ভাইয়ের বিয়ে হলো, আর তার অন্য সাত ভাইয়ের সাথেও এমনটাই ঘটল। পুনরুত্থানে তার স্বামী কে হবে?" প্রভু যীশু তাদের উত্তর দিতেন; তিনি শুধু চলে যেতেন না। তিনি সময় নিয়ে তাদের বুঝিয়ে বলতেন যে পুনরুত্থানে কোনো বিবাহ নেই। আপনি যদি প্রভু যীশুর দেওয়া উত্তরগুলো দেখেন, তবে দেখবেন যে তা কোনো নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়ার মতো ছিল না, যেমনটা আপনি কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রামে 'এর উত্তর কী?' বলে উত্তর খুঁজে পেলে পেতেন। তিনি সর্বদা পবিত্র আত্মার কথা শুনতেন, এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি যা আমাদের মথি ৭:৬ থেকে শিখতে হবে।
অনেক সময়, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য উপযুক্ত বাক্য কোনটি, তা আমাদের জানার প্রয়োজন হয়। সমস্ত পরিচর্যার ক্ষেত্রে, লোকেদের কাছে ঠিক কোন কথাটি পৌঁছে দিতে হবে তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নিয়ম কেন ১ করিন্থীয় ১৪:১ পদে বলে যে, আমাদের অবশ্যই ভাববাণী বলার জন্য আকাঙ্ক্ষা করতে হবে? প্রত্যেক বিশ্বাসীকে বলা হয়েছে যে, তাকে অবশ্যই ভাববাণী বলার জন্য আন্তরিকভাবে আকাঙ্ক্ষা করতে হবে। এর কারণ হলো, নতুন নিয়মের মণ্ডলীর সভায় যদি সকলেই ভাববাণী বলে এবং সকলেরই ভাববাণী বলার বর থাকে (সকলেই ভাববাদী নয়, কিন্তু সকলেই ভাববাণী বলতে পারে), তাহলে বলা হয়েছে যে, যখন এমন কেউ আসে যার এই বর নেই, যে সম্ভবত এই বরগুলোতে বিশ্বাস করে না, সে যা শোনে তার দ্বারা দোষী সাব্যস্ত হয় এবং তার হৃদয়ের গোপন কথাগুলো প্রকাশিত হয়, কারণ সে ঠিক তার প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বাক্য শুনেছে (১ করিন্থীয় ১৪:২৪-২৫)। তখন সে উপুড় হয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করবে এবং বলবে, "আরে! ঈশ্বর নিশ্চয়ই এখানে আছেন, কারণ আমি আমার প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বাক্য পেয়েছি!"
প্রত্যেকটি মণ্ডলীর সভা এই রকম হওয়া উচিত। প্রত্যেক মণ্ডলীতে এমন লোক থাকা উচিত যারা ভাববাণীমূলক বাক্য প্রচার করে। তা করার জন্য আপনাকে ঈশ্বরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে এবং তাঁর কাছে সবকিছু সমর্পণ করতে হবে। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে আপনি ঈশ্বরের বাক্যের প্রচারক হওয়ার যোগ্য নন। একজন ব্যক্তিকে ঠিক কী দেওয়া উচিত, তা আপনাকে জানতে হবে। মথি ৭:৬ পদে প্রভু যীশু যা বলেছেন, তার মূল কথা এটাই। যখন আপনি শূকরের মতো কাউকে দেখবেন, তখন তাকে শূকরের জন্য যা উপযুক্ত, তাই দেবেন; যখন আপনি কুকুরের মতো কাউকে দেখবেন, তখন তাকে একটি হাড় দেবেন। আপনি পশুদের পর্বতে দত্ত উপদেশ দিতে পারেন না।
আমরা যখন ভাববাণীর বর লাভের চেষ্টা করি, তখন কথা বলার জন্য উঠে দাঁড়ানোর মুহূর্তে ঈশ্বর আমাদের এই ক্ষমতা দেন যে, আমাদের সামনে থাকা লোকদের প্রয়োজন ঠিক কী, তা আমরা সঠিকভাবে বুঝতে পারি এবং ঈশ্বর তাদের প্রয়োজনের জন্য আমাদের উপযুক্ত বাক্য দেবেন। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি, যা দিয়ে প্রভু যীশু পর্বতের উপর উপদেশ শেষ করেন এবং এটি আমাদের বোঝা অত্যন্ত জরুরি-বিশেষ করে আমাদের মধ্যে যারা ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করার জন্য আহূত, তা অবিশ্বাসীদের কাছে হোক বা বিশ্বাসীদের কাছে। আমরা কাউকে তুচ্ছ করি না। যদি আপনি কাউকে তুচ্ছ করেন, তবে আপনি ঈশ্বরের দাস হওয়ার যোগ্য নন। প্রভু যীশু সবচেয়ে নিকৃষ্ট পাপীদেরও তুচ্ছ করেননি। কিন্তু মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী আমাদের একটি উপযুক্ত বাক্য থাকা দরকার। মথি ৭:৬ পদের মূল কথা এটাই।